কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আশাবাড়ী সীমান্ত এলাকায় মাদক কারবারিকে তাড়া করতে গিয়ে ভুলবশত ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বিএসএফের হাতে আটক হওয়া পুলিশের দুই সদস্যকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর আজ শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাঁদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
উপজেলার নারায়ণপুর সীমান্তের ২০৫৭ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মধ্যে এই পতাকা বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর বিজিবির মাধ্যমে নিজেদের দুই সদস্যকে বুঝে পায় বাংলাদেশ পুলিশ। ফিরিয়ে আনা পুলিশ সদস্যদের পরিচয় নিশ্চিত করে জানা গেছে, তাঁরা হলেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ইমরান হোসেন এবং কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান।
এই বিষয়ে জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান আজ বেলা সোয়া দুইটার দিকে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘মাদক কারবারিকে ধাওয়া করে ভারতের অভ্যন্তরে ভুলবশত প্রবেশ করা ব্রাহ্মণপাড়া থানার দুই পুলিশ সদস্যকে বিজিবির মাধ্যমে আমরা বুঝে পেয়েছি। দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের এসব বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গতকাল রাতে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ব্রাহ্মণপাড়া থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য রাত্রিকালীন টহল দায়িত্ব পালন করছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাঁরা শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ী সীমান্ত এলাকায় মাদক কারবারের গোপন সংবাদের সন্ধান পান। সেখানে অভিযান শুরু করলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এক মাদক কারবারি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তাকে ধরতে কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান ধাওয়া করেন এবং তাড়াহুড়োর একপর্যায়ে তিনি সীমান্তের ২০৫৯ নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকা দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ফেলেন।
সীমান্তের ওপারে অবস্থানরত কয়েকজন ভারতীয় নাগরিক রোহিত দেওয়ানকে আটক করেন। পরবর্তীতে কনস্টেবল রোহিতকে উদ্ধার করতে গেলে এএসআই ইমরান হোসেনকেও আটক করা হয়। খবর পেয়ে বিএসএফ সদস্যরা সেখানে পৌঁছান এবং দুই পুলিশ সদস্যকে নিজেদের হেফাজতে নেন।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি মো. ফারুক হোসেন জানান, আজ বেলা ১টা ৩০ মিনিটে নারায়ণপুর সীমান্তের ২০৫৭ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকের মাধ্যমেই দুই পুলিশ সদস্যকে হস্তান্তর করা হয়। উক্ত বৈঠকে সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের (৬০ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম, দেবীদ্বার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. শাহিন, ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি মো. ফারুক হোসেন এবং শশীদল বিওপির কমান্ডার সুবেদার মোহাম্মদ তাকবীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ী সীমান্ত এলাকাটি মাদক ও অন্যান্য পণ্য চোরাচালানের জন্য নিয়মিত ব্যবহৃত হয়। এটি কুমিল্লার অন্যতম পরিচিত একটি সীমান্ত মাদকের প্রবেশদ্বার। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ওই নির্দিষ্ট এলাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এখনো কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য যে, এর আগে ২০১৯ সালের ১০ অক্টোবর একই ইউনিয়নের আশাবাড়ী সীমান্ত এলাকায় মাদক উদ্ধার ও চোরাকারবারিদের ধরতে বিশেষ অভিযানে গিয়ে র্যাবের (বর্তমানে এসআরবি) তিন সদস্য এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা দুই নারী সোর্স ভুলক্রমে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করায় বিএসএফ তাঁদের আটক করেছিল। পরবর্তীতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাঁদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।