কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আশাবাড়ী সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় ভুলক্রমে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে আটক হয়েছেন বাংলাদেশের দুই পুলিশ সদস্য। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ী সীমান্তের ২০৫৯ নম্বর পিলার সংলগ্ন এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।

আটক হওয়া পুলিশ সদস্যদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন ব্রাহ্মণপাড়া থানায় কর্মরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইমরান হোসেন এবং কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান। তাঁদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিএসএফ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিজিবির নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ চলছিল বলে জানা গেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন গতকাল রাত পৌনে দুইটা এবং আজ সকাল পৌনে নয়টার দিকে মুক্তকণ্ঠকে জানান, “মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে ভুলক্রমে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করায় দুই পুলিশ সদস্যকে বিএসএফের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।”

পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, গতকাল রাতে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ব্রাহ্মণপাড়া থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য টহল ডিউটি পালন করছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ী সীমান্ত এলাকায় মাদক কারবারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁরা সেখানে অভিযান চালান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এক মাদক কারবারি দ্রুত দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তাকে ধরতে কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান ধাওয়া করেন এবং তাড়াহুড়োর একপর্যায়ে তিনি সীমান্তের ২০৫৯ নম্বর পিলারের নিকটবর্তী ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েন।

সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ভারতীয় নাগরিক রোহিত দেওয়ানকে আটক করেন। পরবর্তীতে তাঁকে উদ্ধার করতে গেলে টহল দলের দায়িত্বে থাকা এএসআই ইমরান হোসেনকেও আটক করা হয়। এরপর বিএসএফ সদস্যরা তাঁদের দুজনকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যান।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, দুই পুলিশ সদস্যকে ফিরিয়ে আনতে বিজিবির সদস্যরা বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা করছেন। সব আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বিএসএফ তাঁদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করতে পারে। তবে এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বিজিবির সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের (৬০ বিজিবি) শশীদল বিওপির দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্যাম্প কমান্ডার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে আশাবাড়ীর স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিএসএফের হেফাজতে নেওয়ার আগে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে স্থানীয় কয়েকজন মারধর করেন। বিশেষ করে কনস্টেবল রোহিত দেওয়ানকে বেশি মারধর করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্যমতে, পুলিশ সদস্যদের মারধর করা ব্যক্তিরা সীমান্তের ওপারে মাদক ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত।

উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ী সীমান্ত এলাকা মাদক ও চোরাচালানের জন্য কুখ্যাত। এই এলাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় চোরাকারবারিরা প্রায়ই সীমান্ত দিয়ে মাদক ও অন্যান্য পণ্য পাচার করে থাকে।

এর আগে ২০১৯ সালের ১০ অক্টোবর একই ইউনিয়নের আশাবাড়ী সীমান্ত এলাকায় মাদক উদ্ধার ও চোরাকারবারিদের ধরতে বিশেষ অভিযানে গিয়ে ভুলক্রমে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিলেন তৎকালীন র‍্যাবের (বর্তমানে এসআরবি) তিন সদস্য এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা দুই নারী সোর্স। সে সময় বিএসএফ তাঁদের আটক করে। পরবর্তীতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের পর আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষ করে তাঁদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।