কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই টুলগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজন হয় বিশাল পরিমাণ তথ্যের ভাণ্ডার। এই তথ্যের একটি বড় অংশ সংগ্রহ করা হয় সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে। ব্যবহারকারীর আপলোড করা প্রতিটি ছবি, লেখা, এমনকি কণ্ঠস্বর পর্যন্ত এই ডেটাসেটের অংশ হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিদিন যত বেশি মানুষ এই ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করছেন, ততই সমৃদ্ধ হচ্ছে এই বিশাল তথ্যভাণ্ডার।
একটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি বোঝা যাক। সকাল আটটায় রাফসান নতুন একটি এআই অ্যাপে তাঁর ছবি আপলোড করে মজার কার্টুন সংস্করণ বানালেন, নিছক শখের বশে। বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করে বেশ মজাও পেলেন, লাইক-কমেন্ট-শেয়ারও হলো অনেক। কিন্তু একবারও ভাবলেন না, ছবিটা এখন কোথায় জমা থাকছে, কে দেখছে বা ভবিষ্যতে কীভাবে ব্যবহৃত হতে পারে, সেটা নিয়ে।
মূল সমস্যাটি এখানেই যে, আমরা অধিকাংশ অ্যাপের শর্তাবলি বা ‘টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনস’ কখনোই পুরোপুরি পড়ে দেখি না; কেবল ‘অ্যাগ্রি’ বাটনে ক্লিক করে দ্রুত এগিয়ে যাই। এর ফলে অজান্তেই ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য তৃতীয় পক্ষের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এই তথ্যের অপব্যবহার হতে পারে নানাভাবে—সাধারণ বিজ্ঞাপন প্রদর্শনী থেকে শুরু করে বড় ধরনের ডিজিটাল প্রতারণা পর্যন্ত।
তাই প্রযুক্তির আনন্দ নেওয়ার আগে কিছুটা সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। যে অ্যাপটি ব্যবহার করছেন সেটি কোনো বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানের কি না, তা যাচাই করে নিন। অ্যাপের অপ্রয়োজনীয় অনুমতিগুলো বন্ধ রাখুন এবং সংবেদনশীল ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার আগে অন্তত দুইবার ভাবুন। এছাড়া ফোনের সেটিংসে গিয়ে মাঝেমধ্যে পরীক্ষা করে দেখুন, কোন অ্যাপটি আপনার ডিভাইসের কী কী অনুমতি নিয়ে রেখেছে—প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো বাতিল করুন অথবা বহাল রাখুন। মনে রাখতে হবে, প্রযুক্তির সুবিধা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা—দুটিই একসঙ্গে পাওয়া সম্ভব, তবে তার জন্য প্রয়োজন সামান্য সচেতনতা।
— লেখক: টেক ব্লগার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর