সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে গত বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি দু’জনের নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার। তাঁরা উভয়েই বাংলাদেশি নাগরিক। মক্কার একটি মসজিদের অভ্যন্তরে তাঁদের অনৈতিক ও অশালীন কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ওই দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করে আদালতে প্রেরণ করা হয়। শরিয়াহ আইনের অধীনে ‘তাআজির’ (বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তি) বিধানের আওতায় আদালত অপরাধের ভয়াবহতা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে উভয়ের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ প্রদান করেন। মসজিদের পবিত্রতা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি যে বিশেষ পরিস্থিতিতে এই অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করেই বিচারক এই কঠোরতম শাস্তির সিদ্ধান্ত নেন বলে জানা গেছে।
এক বিবৃতিতে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পবিত্র মসজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় পবিত্রতা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে শরিয়াহ আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে পবিত্র স্থানে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
আদালতের এই রায় পরবর্তীতে উচ্চতর বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ বহাল রাখলে তা চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। এর পরপরই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য সৌদি আরবের রাজকীয় ডিক্রি বা আদেশ জারি করা হয়। সেই রাজকীয় আদেশের ধারাবাহিকতায় গত বুধবার মক্কা অঞ্চলে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
এক বিবৃতিতে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পবিত্র মসজিদের নিরাপত্তা রক্ষায়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ও ধর্মীয় পবিত্রতা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে শরিয়াহ আইন কার্যকর করার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে পবিত্র স্থানে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।