এক বিসিএসে আনসার ক্যাডারে গেজেটভুক্ত হয়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দিলেও পরবর্তী বিসিএসের পুলিশ ক্যাডারের চূড়ান্ত গেজেটে নাম খুঁজে পাননি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ঝলম-মহিদপুর গ্রামের সন্তান নূরে আলম পারভেজ। কেন তাকে বাদ দেওয়া হলো, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই তার। নিজের বিরুদ্ধে কী ধরনের তথ্য এসেছে এবং কোন মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—সেই সব প্রশ্নের উত্তর চেয়ে ন্যায়সংগত মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও ৪৫তম বিসিএসের পুলিশ ক্যাডারের চূড়ান্ত গেজেটে তার জায়গা হয়নি বলে তিনি দাবি করেছেন। উল্লেখ্য, এর আগের ৪৪তম বিসিএসে তিনি আনসার ক্যাডারে গেজেটভুক্ত হয়েছিলেন।

দীর্ঘ প্রায় চার বছর পর এই বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো। ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের প্রায় ১১ মাস পর সম্প্রতি গেজেট প্রকাশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে প্রকাশিত ওই গেজেটে মোট ১ হাজার ৭০২ জন প্রার্থীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সুপারিশ করা ১ হাজার ৮০৭ জনের মধ্যে ১০৫ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

গেজেট থেকে বাদ পড়া এই ১০৫ জনের একজন হলেন নূরে আলম পারভেজ। তার আশঙ্কা, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তাকে ছাত্রলীগের বড় নেতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়ে থাকতে পারে। তবে তার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকার কারণে বিভিন্ন মিছিল ও মিটিংয়ে অংশ নিতে হয়েছিল। এছাড়া কলেজ জীবনে ভোটাধিকারের দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন বলে জানান তিনি।

কলেজ জীবনের সেই সময়ে ভোটাধিকার আদায়ের লক্ষ্যে শাসনগাছা, কান্দিরপাড় ও পদুয়ার বাজারের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। এমনকি ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে নয়া পল্টনেও গিয়েছিলেন। সেই আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের অনেকেই আজও তার ফেসবুক বন্ধু এবং স্মৃতিতে অম্লান রাজপথের সেই দিনগুলো।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ১৬ জুলাই থেকে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। সেই সময়ের প্রমাণ হিসেবে তার কাছে ছবি ও ভিডিও ফুটেজ রয়েছে বলেও জানান।

নিজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “আমার অপরাধটা কোথায়? অভিযোগ থাকলে তা জানার এবং জবাব দেওয়ার সুযোগ কি আমার প্রাপ্য নয়?” তিনি আরও জানিয়েছেন যে, তিনি কোনো প্রতিশোধ কিংবা বিশেষ সুবিধা প্রত্যাশা করছেন না। বরং তার বিরুদ্ধে আসা তথ্যের ভিত্তি জানতে চান এবং একটি ন্যায়সংগত মূল্যায়ন চান।

চূড়ান্ত গেজেটে নাম না থাকা তার কাছে এখন কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং অনেক অজানা প্রশ্নের সমষ্টি। সেই প্রশ্নগুলোর যথাযথ উত্তর জানতে চাইছেন ৪৫তম বিসিএসের পুলিশ ক্যাডারের গেজেট থেকে বাদ পড়া এই কর্মকর্তা।