স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবস্থিত মন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের প্রতিনিধিরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠকে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির বিষয়ে দৃঢ় আশ্বাস প্রদান করা হয়।
আলোচনার সময় নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, প্রাকৃতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে এবং উভয় দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি প্রায় একই রকম। বিশেষ করে শিক্ষাখাতে সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে ২ হাজার ৫০০ এর বেশি নেপালি শিক্ষার্থী চিকিৎসাবিদ্যায় পড়াশোনা করছেন। তিনি মনে করেন, শিক্ষার এই ক্ষেত্রে সহায়তার সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব।
এছাড়া, নেপালে সম্প্রতি সংঘটিত ভয়াবহ বন্যার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত জানান, বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোর পুনর্নির্মাণের জন্য প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন। এই সংকটময় প্রেক্ষাপটে তিনি বাংলাদেশের সার্বিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।
নেপালের এই প্রস্তাবের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, “নেপাল বাংলাদেশের এক বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র। বাংলাদেশ সবসময় নেপালের পাশে রয়েছে এবং যে কোনো প্রয়োজনে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে।”
আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) পুনরায় সক্রিয় ও পুনরুজ্জীবিত করতে নেপালের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, “বৈশ্বিক বিভিন্ন ফোরামে বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে আঞ্চলিক দেশগুলো এককভাবে কথা না বলে যদি সম্মিলিতভাবে আওয়াজ তোলে, তবে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূভাবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হবে।”
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, “আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধি পেলে প্রতিবেশী দেশগুলো তুলনামূলক সুবিধা পাবে, পরিবহন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং পণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় বৃদ্ধি পাবে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। একইসঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে নিজেদের দেশীয় শিল্প ও অর্থনীতিকে সুরক্ষা দেওয়া অনেক সহজ হবে।”
সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষই বন্ধুপ্রতিম এই দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় ও বহুমুখী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।