ভবিষ্যতে বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের জন্য অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে পানির সংকট বলে মনে করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তাঁর মতে, এখনই যদি পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না যায়, তবে অদূর ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে হবে। তাই দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতিটি স্তরে পানির গুরুত্ব এবং এর যথাযথ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর কার্যালয়ে ইউনিসেফের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এই কথাগুলো বলেন। উক্ত বৈঠকে নিরাপদ ও সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে ইউনিসেফ বাংলাদেশের রিপ্রেজেনটেটিভ অ্যাড ইন্টেরিম গিলিয়ান মেলসপ (Gillian Mellsop), ডেপুটি কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ (প্রোগ্রাম) এমানুয়েল আব্রিউ (Emmanuelle Abrioux)সহ ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেন। এছাড়া বিশ্বব্যাংক ও ওয়াটারএইডের প্রতিনিধিরাও এই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক চলাকালীন জানানো হয় যে, ইউনিসেফের সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, ওয়াসা এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিভিন্ন প্রকল্প বর্তমানে চলমান রয়েছে।
নিরাপদ ও সুপেয় পানির অপরিহার্যতা ব্যাখ্যা করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, “পানি মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ভবিষ্যতে পানি বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। একইভাবে বৈশ্বিকভাবেও পানি মানবজাতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। এ কারণে এখন থেকেই পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।”
পানি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “প্রায় ৬০ বছর আগে সুইডেনের মতো দেশগুলো প্রাকৃতিক সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহারের নেতিবাচক দিক উপলব্ধি করেছিল। বাংলাদেশও বর্তমানে একই ধরনের বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে। তাই এসব দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।”
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং শিল্পায়নের প্রক্রিয়ার সঙ্গে পানির সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। বিশেষ করে দেশের বস্ত্র ও পোশাকশিল্পে প্রচুর পরিমাণে পানি ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, শিল্পকারখানা থেকে নির্গত বর্জ্যের কারণে দেশের অসংখ্য নদী ও খালের পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও পানিসংক্রান্ত নানা জটিল সমস্যা বিদ্যমান রয়েছে।
তিনি বলেন, “উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে, তবে সেই উন্নয়ন যেন মানুষের জীবন ও পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। শুধু ভালো আবাসন নিশ্চিত করলেই হবে না; মানুষের জন্য নিরাপদ পানি ও সুস্থ পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে।”
এ সভায় পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।