আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য ‘ভোট জালিয়াতি’ রুখতে ক্যালিফোর্নিয়ার মতো বৃহত্তম অঙ্গরাজ্যকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট বা বিচার বিভাগ এই নির্দেশ প্রদান করেছে বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদক জানিয়েছেন, তারা ওই চিঠির বিষয়বস্তু দেখেছেন। গত মঙ্গলবার পাঠানো সেই চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে।

অ-নাগরিকদের ভোটদান নিয়ে বিতর্ক

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ট্রাম্প প্রশাসন চায়, প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন এমন ব্যক্তিরা যেন এই নির্বাচনে ভোট দিতে না পারেন। রয়টার্সের তথ্যমতে, এরই ধারাবাহিকতায় ভোটার তালিকায় থাকা সম্ভাব্য ‘অ-নাগরিকদের’ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে বিচার বিভাগ। ইমেইলের মাধ্যমে কিছু ভোটারের তালিকা পাঠিয়ে বলা হয়েছে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তালিকাটি পর্যালোচনা করে প্রাপ্ত তথ্য জানাতে হবে। অন্যথায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট শার্লি ওয়েবারকে এই চিঠি লিখেছেন ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আর ট্রেন্ট ম্যাককটার। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট ইতিমধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির কর্মকর্তাদের কাছে পাসওয়ার্ড-সুরক্ষিত একটি থাম্ব ড্রাইভ পাঠিয়েছে। এতে এমন কিছু ব্যক্তির তালিকা রয়েছে, যাদের আসন্ন নির্বাচনে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফেডারেল সরকারের সন্দেহ, তালিকাভুক্ত এই ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন, তবে ইতিমধ্যে ডাকযোগে তাঁদের কাছে ব্যালট পাঠানো হয়ে গেছে।

ব্যালট ফেরত নেওয়ার নির্দেশ

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের নাগরিকত্বের বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আর কোনো ব্যালট পাঠানো যাবে না। পাশাপাশি, যাঁদের কাছে ইতিমধ্যে ব্যালট পৌঁছে গেছে, তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে তা ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তিরা যদি ডাকযোগে ব্যালট ফেরত পাঠান, তবে সেই ব্যালটগুলো আলাদা করে সংরক্ষণ করতে হবে। এছাড়া যাঁরা ইতিমধ্যে ডাকযোগে পাওয়া ব্যালটে ভোট দিয়ে ফেলেছেন, তাঁদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেই ভোট গণনা না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ভোটাধিকার যথাযথভাবে রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আর ট্রেন্ট ম্যাককটার লিখেছেন, ‘অ-নাগরিকদের ভোটের সুযোগ নাগরিকদের ভোটের গুরুত্ব কমিয়ে দেয়।’

ভোটার তালিকায় অ-নাগরিকদের উপস্থিতি

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন বিচার বিভাগের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার প্রবণতা ব্যাপক হারে বাড়ছে। তবে গবেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়ার ঘটনা একেবারে বিরল না হলেও তা খুব ব্যাপক নয়।

গত সেপ্টেম্বরে রয়টার্সের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০০০ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ভোটার তালিকায় ৩০ হাজারের বেশি অ-নাগরিকের নাম যুক্ত হওয়ার কথা জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মূলত সফটওয়্যার বিভ্রাট এবং ক্লারিক্যাল এরর বা করণিকদের ভুলের কারণে এমন ব্যক্তিদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। তবে এই ৩০ হাজারের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে কতজন ভোট দিয়েছেন, তা জানা যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। সেই তুলনায় ৩০ হাজার ভোট নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে বড় কোনো প্রভাব ফেলার কথা নয়।

তা সত্ত্বেও অ-নাগরিকদের ভোটদান ঠেকাতে মরিয়া ট্রাম্প প্রশাসন। গত জুলাই মাসে দেশের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তাদের চিঠি পাঠিয়ে অ-নাগরিকদের বিষয়ে সতর্ক করেছিল বিচার বিভাগ। সেই চিঠিতে বলা হয়, জেনেশুনে অ-নাগরিকদের ভোটার তালিকায় রাখা হলে বা তাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফৌজদারি বিচারের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

ভোটার তালিকায় থাকা অ-নাগরিকদের শনাক্ত করার লক্ষ্যে সিভিল রাইটস ডিভিশন বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্যের কাছে ভোটারদের সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরসহ বেশ কিছু গোপনীয় তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল। তবে অনেক অঙ্গরাজ্যই ভোটার তালিকা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩০টি অঙ্গরাজ্যের বিরুদ্ধে মামলা করলেও সিভিল রাইটস ডিভিশন কোনোটিতেই জয়লাভ করতে পারেনি, বরং ২৬টি মামলায় তারা হেরে যায়।