আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাজিল (স্নাতক) পাস পরীক্ষা-২০২৫ শুরু হয়েছে। প্রথম দিনের এই পরীক্ষায় ফাজিল প্রথম বর্ষের নতুন সিলেবাস অনুযায়ী উলুমুল কোরআন ওয়াল হাদিস (বিষয় কোড ১১১০০১)-সহ অন্যান্য বিষয়ের পরীক্ষা সারা দেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। তবে পরীক্ষার শুরুতেই চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রশ্নপত্রে দেওয়া বিষয় কোড এবং উত্তরপত্রের ওএমআর (OMR) শিটের ঘরের সংখ্যার অমিলের কারণে চরম জটিলতার মুখে পড়েছেন পরীক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, প্রশ্নপত্রে বিষয় কোড হিসেবে চারটি ডিজিট উল্লেখ থাকলেও মূল উত্তরপত্রের ওএমআর অংশে কোড লেখার জন্য মাত্র তিনটি ঘর নির্ধারিত ছিল। ফলে শিক্ষার্থীরা বিষয় কোডের একটি ডিজিট পূরণ করতে পারেননি। এই অসংগতির কারণে পরীক্ষার পর নিজেদের ফলাফল নিয়ে গভীর উদ্বেগে পড়েছেন ছাত্র-ছাত্রীরা।
আজ দুপুর ১টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রসচিব এবং একাধিক মাদ্রাসার অধ্যক্ষরা মুক্তকণ্ঠের প্রতিবেদককে এই সমস্যার কথা নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের সভাপতি এবং কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “ফাজিল পরীক্ষায় বসে বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছে পরীক্ষার্থীরা। প্রশ্নে বিষয়কোড ছিল ৪ ডিজিটের কিন্তু উত্তরপত্রে ৩ ডিজিট পূরণের জায়গা ছিল। এমন পরিস্থিতিতে আরবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো নোটিশও পাইনি। ছাত্র-ছাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়লে সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করে আপাতত পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরীক্ষার ফল নিয়ে শিক্ষার্থীরা এখনও শঙ্কায় রয়েছে।”
পাবলিক পরীক্ষা আয়োজনে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন দায়িত্বহীন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন ওই অধ্যক্ষ।
বিষয় কোড নিয়ে এই অব্যবস্থাপনার বিষয়ে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. ওয়ালিউর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রতিবেদকের কাছে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরিবর্তে তিনি সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে ডেকে বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে বলেন।
সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুক্তকণ্ঠকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নতুন এবং পুরোনো সিলেবাসের খাতা আলাদা দুটি ভবনে বিতরণ করা হয়েছিল। নতুন সিলেবাসের খাতায় নির্ধারিত চার ডিজিটের বিষয় কোড লেখার জায়গা ছিল এবং তারা সঠিক খাতাই বিতরণ করেছেন। তিনি দাবি করেন, কোনো অধ্যক্ষ হয়তো অসতর্কতাবশত ভুল করে অন্য খাতা নিয়ে থাকতে পারেন।
তিনি আরও জানান, কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে এই সমস্যার কথা জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে একটি ডিজিট বাদ দিয়ে বাকি তিন ডিজিট পূরণ করার নির্দেশনা দিয়ে সাময়িকভাবে সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দাবি, ছাত্র-ছাত্রীদের খাতা মূল্যায়ন বা ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না।
দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসার অধ্যক্ষরাও মুক্তকণ্ঠকে এই সমস্যার কথা জানিয়েছেন। টঙ্গীর তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. হিফজুর রহমান প্রতিবেদককে বলেন, “এমন সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে চার ডিজিটের শেষের তিন ডিজিট পূরণ করতে বলা হয়েছে আমাদের।”
পরীক্ষায় এমন বিশৃঙ্খলার বিষয়ে জানতে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু জাফর খানকে একাধিকবার মোবাইলে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার রাতে আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাজিল (স্নাতক) পাস প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা-২০২৫ এর প্রশ্নপত্রের চার ডিজিটের পরিবর্তে তিন ডিজিট পূরণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে পরীক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের।