সাতক্ষীরা থেকে শ্যামনগর ভেটখালী পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কে তীব্র ধুলাবালির কারণে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, পথচারী এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ। সড়ক সংস্কারকাজের ধীরগতির ফলে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট গর্ত তৈরি হয়েছে, যা চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া যানবাহন চলাচলের সাথে সাথে উড়ছে প্রচুর ধুলাবালি, যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক যান চলাচল এবং মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, সড়কটির কিছু অংশ সংস্কার করা হলেও অনেক জায়গায় ছোট ছোট গর্ত রয়ে গেছে। রাস্তার ওপর ছড়িয়ে থাকা বালু যখন যানবাহনের সংস্পর্শে আসে, তখন তা বাতাসে উড়তে শুরু করে। এর ফলে মুহূর্তের মধ্যেই আশপাশের পুরো পরিবেশ ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানোর কথা থাকলেও বাস্তবে তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। তাদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে জনদুর্ভোগ আরও প্রকট হবে। ধুলাবালির কারণে শ্বাসকষ্ট, কাশি, হাঁচি, চোখে জ্বালাপোড়া ও অ্যালার্জির মতো স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং আগে থেকেই শ্বাসকষ্টে ভোগা মানুষের জন্য এই পরিবেশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ভ্যানচালক আলাউদ্দীন বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন এ সড়কে বহুবার চলাচল করি। রাস্তার কাজ ধীরগতিতে চলছে। তার ওপর রাস্তায় পানি না দেওয়ায় ধুলাবালিতে আমরা নাজেহাল।’

একই সাথে গহর আলম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী ইংরেজি শিক্ষক মুজাহিদ ইসলাম সবুজ বলেন, ‘আমরা নিয়মিত এ সড়ক দিয়ে চলাচল করি। ধুলাবালির কারণে শ্বাসকষ্ট, কাশি, হাঁচি ও হাঁপানির ঝুঁকি বাড়ছে। এ অবস্থা থেকে দ্রুত মুক্তি চাই।’

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া জানতে সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনোয়ার পারভেজের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. রাফিউজ্জামান জানান, ‘বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। আগামী নভেম্বর মাস থেকে ভেটখালী-শ্যামনগর সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হবে।’

স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শুরু ও শেষ করার পাশাপাশি ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।