সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ষষ্ঠ শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় ধর্ষণের অভিযোগ এনে আজ সোমবার শ্যামনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন ওই ছাত্রীর নানি। উক্ত মামলায় ওই মাদ্রাসার একজন শিক্ষক এবং দুই শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে named করা হয়েছে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক নূর আলম সরদার (৩৬) এবং দশম ও অষ্টম শ্রেণির দুই ছাত্রকে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, শিশুটি গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে তার নানির বাড়িতে অবস্থান করে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে আসছিল। তার বাবা যশোরের শার্শা উপজেলার বাসিন্দা এবং মা মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে কর্মরত আছেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে যে, গত বছরের ডিসেম্বরে দশম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী শিশুটির গোসলের ভিডিও গোপনে ধারণ করে। পরবর্তীতে সেই ভিডিওটি অষ্টম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর ওই দুজন মিলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২ জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে নানির অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে ওই দুজন শিশুটিকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, শিক্ষক নূর আলম সরদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে, তিনি প্রতিবেশী এবং শিক্ষক হওয়ার কারণে নিয়মিত ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি নানি বাড়িতে না থাকার সুযোগে তিনি শিশুটিকে জুস খাওয়ান। এরপর শিশুটি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে তাকে ধর্ষণ করেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, বয়স কম হওয়া এবং লোকলজ্জার ভয়ে শিশুটি দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেনি। তবে ৫ অক্টোবর সকালে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নানি তাকে যশোরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান যে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। এরপর নানির জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি তার সাথে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের কথা প্রকাশ করে।

শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। শিক্ষক নূর আলম সরদারের স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

ঘটনার প্রেক্ষিতে ওই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তিন দিনের মধ্যে সেই নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শিশুটির নানির করা মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে এবং তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও কাজ করছে।

নিজের নাতনির এই করুণ অবস্থার কথা জানিয়ে নানি বলেন, ‘আমি অসহায় মানুষ। আল্লাহ আর থানা-পুলিশই এখন আমার ভরসা। মেয়েটার জীবন তো শেষ হয়ে গেল! এখন কী করব, কোথায় যাব, কিছুই বুঝতে পারছি না।’