দেশব্যাপী ৩৩ হাজার ৮৫১টি মন্দির ও মণ্ডপে এবার শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিন দিনের সরকারি ছুটির ব্যবস্থার জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে।
পূজা মণ্ডপগুলোতে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে কেন্দ্রীয় কমিটি ১১ দফার একটি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো উৎসবের শান্তি বজায় রাখা। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ছাত্র নেতৃত্বকে এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে হবে। পাশাপাশি, নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে দিনরাত পাহারা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে এবং সেই স্বেচ্ছাসেবকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিকটস্থ থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা নির্দেশনার পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলনে আরও ৮ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এসব দাবির মধ্যে অন্যতম ছিল সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন ও মন্ত্রণালয় গঠন করা।
পঞ্জিকার হিসাব অনুযায়ী, আগামীকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থেকে শুরু হবে শারদীয় দুর্গাপূজা। মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী ও মহানবমীর আনুষ্ঠানিক পূজার পর আগামী বুধবার বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসবের মূল আয়োজন।
অন্যদিকে, শারদীয় দুর্গোৎসবকে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশ থেকে বিভিন্ন বিশেষ নির্দেশনা ও পরামর্শ জারি করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের জরুরি সহায়তার জন্য পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষসহ জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে দ্রুত যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।