ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কমলাপুর রেলওয়ে ফরেন পোস্ট অফিসে পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আমদানি-নিষিদ্ধ ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম, সোনার গয়না, বিদেশি সিগারেট, যৌন উত্তেজক ওষুধ, ইনসুলিন ও মদসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

গত মঙ্গলবার ও বুধবার দুই দিন ধরে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে এসব অবৈধ পণ্য উদ্ধার করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জব্দ করা সামগ্রীর আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ১৩ লাখ ৪০ হাজার ১০০ টাকা।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হয়, গতকাল ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে আসা এক যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশির সময় যৌন উত্তেজক ওষুধ ও ইনসুলিনসহ প্রায় ৫৫ কেজি ওষুধ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগেজ এবং পরিত্যক্ত কার্টন থেকে বিদেশি সিগারেট, আমদানি-নিষিদ্ধ ক্রিম, প্রসাধনসামগ্রী, মদ, সোনার গয়না, ল্যাপটপ ও মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে।

দুই দিনের এই সামগ্রিক অভিযানে মোট ৫৩১ কার্টন বিদেশি সিগারেট, ১০০ গ্রাম সোনার গয়না, ৩২টি ল্যাপটপ ও তিনটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ১৭ লিটার মদ ও অ্যালকোহলজাতীয় পানীয়, ৫৫ দশমিক ৮ কেজি ওষুধ, ৬৪ দশমিক ১৮ কেজি আমদানি-নিষিদ্ধ ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম এবং ৬৮ কেজি অন্যান্য প্রসাধনসামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

ডাক ও রেলপথে চোরাচালানের কৌশল

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ফরেন পোস্ট অফিসে অভিযান চালিয়ে ৭ হাজার ৭৮৭টি আমদানি-নিষিদ্ধ ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম ও ৩১টি ব্যবহৃত ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।

সংস্থাটির দাবি, পণ্যগুলো আকাশপথে দেশে আনার পর বিমানবন্দরের ডাক বাছাই কেন্দ্র ও কমলাপুরের আরএমএস কেন্দ্র হয়ে চট্টগ্রাম জেনারেল পোস্ট অফিসে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। এ ঘটনায় বিমানবন্দর, ডাক বিভাগ ও রেলপথ ব্যবহার করে পণ্য পরিবহনের একটি চোরাচালান কৌশল শনাক্ত হয়েছে।

জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি ও নজরদারি

ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বলেছে, “চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যৌন উত্তেজক ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং নির্ধারিত তাপমাত্রা বজায় না রেখে ইনসুলিন পরিবহন জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।” এই কারণে ওষুধের অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিও অভিযানে গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

চোরাচালান ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে বিমানবন্দর, ডাক বাছাই কেন্দ্র ও রেলপথে কড়া নজরদারি এবং নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।