স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিন থেকেই গ্রাহকদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়ে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ন্যাশনাল ব্যাংক। ব্যাংকটির সাধারণ আমানতকারীরা এখন থেকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর দিলকুশায় অবস্থিত ব্যাংকটির শাখায় সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, পুরো শাখাটি বেলুন দিয়ে সাজানো হয়েছে। প্রবেশপথে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যাংকের কর্মীরা আগত গ্রাহকদের হাতে ফুল তুলে দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন। এক উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

টাকা তুলতে আসা গ্রাহকদের কেবল ফুল দিয়েই নয়, বরং মিষ্টিমুখ করানোর পাশাপাশি কফি দিয়ে আপ্যায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া এদিন টাকা উত্তোলনকারী অধিকাংশ গ্রাহককেই নতুন নোট প্রদান করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

শাখাটির কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যানুসারে, গত ১১ অক্টোবর যারা টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করেছিলেন, তাদের চাহিদামত অর্থ আজ প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি মানবিক ও বিশেষ বিবেচনায় অন্যান্য গ্রাহকদেরও টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। তবে বড় অঙ্কের অর্থ উত্তোলনের অনুরোধ জানালে গ্রাহকদের আগামী কয়েক দিন পর পুনরায় আসতে বলা হচ্ছে।

এর আগে, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার সুবিধার্থে বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংককে সাত হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে রাষ্ট্র মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিশ্চয়তা বা গ্যারান্টির প্রেক্ষিতে সোনালী ব্যাংক এই বিশাল অঙ্কের অর্থ ধার দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকেরা দীর্ঘ সময় ধরে তাদের চাহিদামতো টাকা তুলতে পারছিলেন না। এই সংকটের কারণে সম্প্রতি চারজন আমানতকারী আদালতের শরণাপন্ন হন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ওই চার আমানতকারীর টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। বিষয়টি পরবর্তীতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নজরে আসে এবং সরকার ব্যাংকটির লেনদেন স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

উক্ত বৈঠকে আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরুর নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় একই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই প্রক্রিয়ারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার থেকে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে সোনালী ব্যাংক থেকে সাত হাজার কোটি টাকা ধার নিয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক।