বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংকে আমানত উত্তোলনের জন্য প্রথম দিনেই ১৮৮ কোটি টাকার আবেদন করেছেন গ্রাহকরা। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবেদন করা এই অর্থ আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) ফেরত দেওয়া হবে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমকর্মীদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এর preceding ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের সুবিধার্থে রাষ্ট্র মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংককে সাত হাজার কোটি টাকা ঋণ প্রদান করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার ওপর ভিত্তি করেই সোনালী ব্যাংক এই বিশাল অঙ্কের অর্থ ধার দিয়েছে।

এই ঋণের অর্থ ব্যবহার করে আগামী ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হবে। ব্যাংকটির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়ে এলে গ্রাহকরা তাদের চাহিদা অনুযায়ী ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকরা দীর্ঘ সময় ধরে তাদের আমানত বা চাহিদামতো টাকা তুলতে পারছিলেন না। এই চরম সংকটের মুখে ব্যাংকটির চারজন আমানতকারী আদালতের দ্বারস্থ হন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ওই চার গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। বিষয়টি পরবর্তীতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নজরে আসে এবং সরকার ব্যাংকটির লেনদেন স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন।

উক্ত বৈঠকে ১৫ অক্টোবর থেকে ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার থেকে পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যে সোনালী ব্যাংক থেকে সাত হাজার কোটি টাকা ধার নিয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক।