রাতের নিস্তব্ধতা কাটিয়ে ভোরের আলো ফোটার আগেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে উত্তরের জেলা নীলফামারী। ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দু আর অস্পষ্ট হয়ে আসা দূরের পথ জানান দিচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের কথা। হিমেল হাওয়ার সাথে শীতের হালকা আমেজ এখন স্পষ্ট। তবে সূর্য উদিত হওয়ার সাথে সাথেই ধীরে ধীরে মিলিয়ে যেতে শুরু করে কুয়াশার এই আবরণ। গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) কুয়াশায় মোড়ানো সকালে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, চলতি মৌসুমে এটাই প্রথম উল্লেখযোগ্য কুয়াশার উপস্থিতি। গত কয়েক দিন ধরে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেতে শুরু করেছে। ভোরে কুয়াশার এই ঘন আবরণ এবং ঘাসে জমে থাকা শিশির শীতের আগমনের আগাম সংকেত দিচ্ছে বলে তারা মনে করেন।

সকালবেলার এই কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ বেশ উপভোগ করছেন স্কুল শিক্ষার্থী সাদিক ও জিহাদ। তারা জানান, এখনো পুরোদমে ঠান্ডা শুরু হয়নি। তবে সকালের কুয়াশা দেখতে বেশ চমৎকার লাগে। কুয়াশা উপভোগ করতে তারা এখন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠছেন। তাদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত কুয়াশা থাকে, এরপর চারপাশ পরিষ্কার হয়ে যায়।

এদিকে, শীতের এই আগমনী আবহের মধ্যেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে আগাম আলু ও শীতকালীন সবজির আবাদ। অনেক কৃষক ইতিমধ্যে তাদের জমিতে আলুর বীজ রোপণ শুরু করেছেন। অনুকূল আবহাওয়ার মাধ্যমে ভালো ফলনের আশা করছেন তারা। তবে হঠাৎ বৃষ্টির আশঙ্কা এখন আগাম আলুচাষিদের চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।

আগাম আলুচাষি হামিদার রহমান বলেন, “এবার আট বিঘা জমিতে আগাম আলু রোপণের পরিকল্পনা করেছেন তিনি। এর মধ্যে তিন বিঘা জমিতে আলু রোপণ করেছেন। আবহাওয়া ভালো থাকলে লাভের আশা করছেন তিনি। তবে বৃষ্টি হলে বীজ আলু পচে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।”

সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা আইয়ুব আলী জানান, শীতের আমেজ অনুভূত হচ্ছে। তবে অক্টোবরেই পুরোদমে শীত নামবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তিনি আরও জানান, আজ সকালে ২৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ মাসের ১০ তারিখে এ মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২২ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।