হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নীলফামারীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন চিকিৎসক এবং ইন্টার্ন শিক্ষার্থীরা। এই ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা প্রদান এবং দ্রুত স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি তুলে ধরেন তারা। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে এক ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নীলফামারী শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এতে নীলফামারী মেডিকেল কলেজ ও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক এবং ইন্টার্ন শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে নীলফামারী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জিম্মা হোসেন বলেন, “রোববার দুপুরে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রথীন্দ্রনাথ মণ্ডল একজন ভালো মানুষ। তার সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. দেবব্রত হালদার বলেন, “তারা মানুষের চিকিৎসাসেবা দেন। ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রায় ৫০০ রোগীকে সেবা দিতে হয়। এত চাপের মধ্যেও তারা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। কোনো কাজ সম্পন্ন করতে সময় লাগতে পারে, তাই বলে চিকিৎসকের ওপর হামলা করা যায় না।” তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা একযোগে বলেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের জন্য একটি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানান তারা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে বেসরকারি মালিকানাধীন অ্যাম্বুলেন্সের চালক নাঈম আলট্রাসনোগ্রাফির প্রতিবেদন সংগ্রহের জন্য হাসপাতালের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগে যান। সেখানে প্রতিবেদন দিতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে তিনি চিৎকার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই সময় দায়িত্বে থাকা সহকারী অধ্যাপক ডা. রথীন্দ্রনাথ মণ্ডল তাকে বাধা দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে চিকিৎসককে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

চিকিৎসকের চিৎকার শুনে হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নাঈমকে আটক করেন। পরবর্তীতে তাকে নীলফামারী সদর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল্লাহ হেল মাফি জানান, রোগীদের চিকিৎসাসেবা যেন স্বাভাবিক থাকে সেই লক্ষ্যে শুধুমাত্র ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি পালন করেন। দুপুর ১২টায় তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে পুনরায় কাজে ফিরে যান।