‘রুটি-রুজির সংগ্রাম চলছে, চলবে’, ‘বেতন নিয়ে টালবাহানা চলবে না’—এমন সব জোরালো স্লোগানের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার বোনাস আদায়ের দাবিতে আন্দোলনে শামিল হয়েছেন মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মিরতিংগা চা-বাগানের ১ হাজার ১৭ জন শ্রমিক।
গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ৯টার পর থেকে বাগানের সব কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা। শ্রমিকদের এই আকস্মিক কর্মবিরতিতে বাগানের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি ও অভিযোগ, প্রতি বছর দুর্গাপূজার আগে তারা ৬০ শতাংশ হারে বোনাস পেয়ে থাকেন। কিন্তু এবার বাগান কর্তৃপক্ষ সেই প্রথা ভেঙে মাত্র ৩০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা তারা মেনে নিতে পারছেন না। শ্রমিকদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, আজকের মধ্যেই যদি পূর্ণাঙ্গ বোনাস প্রদান করা না হয়, তবে তারা আরও কঠোর আন্দোলনের পথ অবলম্বন করবেন।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া রিতা পাইনকা, শান্তি তাঁতি, আলন্তী উরাং, মানিক প্রসাদ, লেবুলাল বাউরী ও সুমন কুর্মীসহ অন্যান্য চা-শ্রমিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সারা বছর কঠোর পরিশ্রম করেও উৎসবের সময় তাদের ন্যায্য পাওনা নিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে। তারা প্রশ্ন তোলেন, বাগানে কোনো লোকসান না থাকা সত্ত্বেও শ্রমিকদের সঙ্গে কেন এমন আচরণ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সাবেক সভাপতি নিরঞ্জন তন্তবায় এবং বর্তমান সভাপতি মন্টু অলমিক জানান, আশপাশের অন্যান্য সব বাগানের শ্রমিকরা তাদের বেতন ও বোনাস পেয়ে গেছেন। অথচ মিরতিংগা বাগানের শ্রমিকেরা এখনও এক সপ্তাহের মজুরি এবং পূজার বোনাস পাননি। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলে জানান তারা।
শ্রমিকদের এই দাবির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মিরতিংগা চা-বাগানের ব্যবস্থাপক রেজাউল হায়াত খান (ইমন) বলেন, “শ্রমিকদের দাবি যৌক্তিক। তবে ব্যাংক থেকে প্রত্যাশিত ঋণ না পাওয়ায় আপাতত পূর্ণ বোনাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমরা অর্ধেক (৩০ শতাংশ) বোনাস দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও শ্রমিকেরা তা গ্রহণে রাজি হননি।”