যাত্রীবাহী বাসে একটি পুরোনো ও ভাঙা হারমোনিয়ামের ভেতরে কৌশলে লুকিয়ে বিদেশি পিস্তল ও গুলি পাচারের চেষ্টার অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটার দিকে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব থানার পূর্ব গোলচত্বর এলাকায় তল্লাশিচৌকি বসিয়ে মো. বারেক ব্যাপারী নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তল্লাশির সময় তাঁর সাথে থাকা হারমোনিয়ামের ভেতর থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, সাতটি গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করে বাহিনীটি।

আটক বারেক ব্যাপারীর দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে মুন্সিগঞ্জে অভিযান চালিয়ে আরও দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, চারটি গুলি এবং অস্ত্র বিক্রির টাকা হিসেবে নগদ ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার বিকেল পাঁচটায় ময়মনসিংহে এসআরবি-১৪-এর সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই বিস্তারিত তথ্য জানান বাহিনীটির অধিনায়ক মাসুদ রানা।

এসআরবি সূত্রে জানা গেছে, আটক বারেক ব্যাপারীর বয়স ৪৯ বছর। তাঁর স্থায়ী বাড়ি পাবনা জেলায় হলেও তিনি বর্তমানে ঈশ্বরদীতে বসবাস করেন। তিনি কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা রিয়াজ পরিবহনের একটি বাসে করে যাত্রা করছিলেন। যমুনা সেতুর পূর্ব থানার পূর্ব গোলচত্বর এলাকায় বাসটিতে তল্লাশি চালানোর সময় বারেকের কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের। এরপরই তাঁর সাথে থাকা পুরোনো হারমোনিয়ামটি পরীক্ষা করে ভেতরে লুকানো অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এসআরবি জানিয়েছে, বারেক এই অস্ত্র দুটি মুন্সিগঞ্জের সুজন ব্যাপারী নামের এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। সুজন কুষ্টিয়া থেকে এই পিস্তল দুটি কিনেছেন বলে বারেক জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এসআরবি-১৪-এর টাঙ্গাইল ক্যাম্প থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-১১-এর নারায়ণগঞ্জের একটি দল আজ সকাল সাতটার দিকে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার শিরোলই এলাকায় সুজন ব্যাপারীর বাসায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে সুজন ব্যাপারী (৩২) এবং তাঁর বড় ভাই মনির হোসেনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের বাসা তল্লাশি করে একটি বিদেশি পিস্তল, চারটি গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, তিনটি মুঠোফোন এবং নগদ ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়।

পুরো অভিযানে মোট তিনটি বিদেশি পিস্তল, ১১টি গুলি, ৪টি ম্যাগাজিন, ৩টি মুঠোফোন এবং ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে এসআরবি।

এ বিষয়ে এসআরবি অধিনায়ক মাসুদ রানা বলেন, “এ ঘটনায় টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব থানা ও মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। অস্ত্রগুলো কোথা থেকে এসেছে, কত দিন ধরে এ কাজে আটক ব্যক্তিরা জড়িত, সেসব বিষয় তদন্তে বেরিয়ে আসবে।”