চিনি, ইউরিয়া, এমওপি, ডিএপি সার এবং এলএনজি আমদানিসহ মোট ১১টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করেছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত চলতি বছরের সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৪৯তম সভায় এসব প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুটি আলাদা প্রস্তাবের আওতায় ই-জিপির মাধ্যমে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৫০ কেজির বস্তায় মোট ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি কেনার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
এর মধ্যে প্রথম প্রস্তাবে ৫ হাজার মেট্রিক টন চিনির ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে ৫১ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই হিসেবে প্রতি কেজি চিনির দাম পড়বে ১০২ টাকা ৯৫ পয়সা। দ্বিতীয় প্রস্তাবে আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন চিনির ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে ৫১ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যেখানে প্রতি কেজির দাম হবে ১০৩ টাকা ৯৫ পয়সা। উভয় প্রস্তাবের ক্ষেত্রেই সুপারিশ করা দরদাতা প্রতিষ্ঠান হলো মেঘনা সুগার রিফাইনারি লিমিটেড।
অন্যদিকে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের তৃতীয় সংশোধিত প্রস্তাবটিও অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মূল চুক্তিমূল্য ছিল ২০ হাজার ৫৯৮ কোটি ৬৪ লাখ ৮৪ হাজার ৬৯৯ টাকা। তবে ৩৬০ কোটি ৬৫ লাখ ২২ হাজার ২৫ টাকা ভেরিয়েশনের পর সংশোধিত চুক্তিমূল্য দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৯৫৯ কোটি ৩০ লাখ ৬ হাজার ৭২৪ টাকা। প্রকল্পটির জন্য সুপারিশ করা দরদাতা হলো জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন ও ফুজিতা করপোরেশন এবং কোরিয়ার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটির সমন্বয়ে গঠিত এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম।
একই প্রকল্পের পরামর্শক সেবা-সংক্রান্ত আরেকটি প্রস্তাবে ৪০৫ কোটি টাকা ভেরিয়েশন যুক্ত হয়ে সংশোধিত চুক্তিমূল্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৭৬ কোটি ৭১ লাখ ৯৭ হাজার ৪৫৭ টাকা। এই কাজের জন্য জাপানের নিপ্পন কোয়েই, ওরিয়েন্টাল কনসালট্যান্টস গ্লোবাল, সিঙ্গাপুরের সিপিজি কনসালট্যান্টস এবং বাংলাদেশের ডেভেলপমেন্ট ডিজাইন কনসালট্যান্টসের যৌথ উদ্যোগকে নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৮০ হাজার মেট্রিক টন গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়। এই আমদানিতে ব্যয় হবে ২২০ কোটি ৬৫ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম ধরা হয়েছে ৪৪৬ দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার।
এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব থেকে ৪২ হাজার মেট্রিক টন গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব কার্যোত্তর অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২৭৫ কোটি ৭৭ লাখ ৭২ হাজার ২৯০ টাকা এবং প্রতি মেট্রিক টনের দাম ৫৩১ দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার।
রাশিয়ার জেএসসি ‘ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রোডিনটর্গ)’ থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মোট ব্যয় হবে ১৬৬ কোটি ৯ লাখ ৯০ হাজার ৪৫০ টাকা এবং প্রতি মেট্রিক টনের দাম ৩৮৩ দশমিক ৮০ মার্কিন ডলার।
কানাডার কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে ৮০ হাজার মেট্রিক টন এবং ৪০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির দুটি আলাদা প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। উভয় প্রস্তাবের ক্ষেত্রেই প্রতি মেট্রিক টনের দাম ৩৮২ দশমিক ৩৮ মার্কিন ডলার নির্ধারিত হয়েছে।
পাশাপাশি জিটুজি ভিত্তিতে ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেডের কাছ থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত মোট ৯ কার্গো এলএনজি আমদানির দর প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির একক দর নির্ধারণ করা হয়েছে জেকেএম-০.১০ মার্কিন ডলার।
সৌদি আরবের এমএ’এডেন থেকে ২০২৬ সালের পঞ্চম লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৪২৫ কোটি ৫৮ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং প্রতি মেট্রিক টন ডিএপি সারের দাম ৮৬১ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার।
তবে কমিটি কক্সবাজারের মহেশখালীতে জিটুজি পদ্ধতিতে কুতুবজোম ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের লক্ষ্যে চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (সিএনইই) দাখিল করা দর প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করেছে। উল্লেখ্য, ১৫ বছর মেয়াদে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১২ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা এবং ২০ বছর মেয়াদে প্রায় ১৩ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।