কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিনের ছেঁড়া দ্বীপ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ১২ টন ইউরিয়া সার ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বহনকারী একটি ট্রলার জব্দ করেছে কোস্টগার্ড। এ সময় ট্রলারের চালকসহ ১০ জনকে আটক করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উক্ত পণ্যগুলো মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
গতকাল শুক্রবার রাত একটার দিকে ছেঁড়া দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব দিকের গভীর সাগরে অভিযান চালিয়ে ট্রলারটি আটক করা হয়। আজ শনিবার দুপুরে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, "গভীর রাতে সেন্ট মার্টিন উপকূল দিয়ে মিয়ানমারের দিকে যেতে থাকা ইউরিয়া সারবোঝাই একটি ট্রলারকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। ট্রলারটি সংকেত অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করলে কোস্টগার্ডের সদস্যরা ধাওয়া করে সেটি জব্দ করেন।"
কোস্টগার্ডের তল্লাশিতে ট্রলার থেকে ২৪০ বস্তা ইউরিয়া সার, ১৯০ বস্তা রসুন এবং ৯০ বস্তা পেঁয়াজ উদ্ধার করা হয়। বিবরণ অনুযায়ী, ইউরিয়া সারের পরিমাণ ১২ হাজার কেজি বা ১২ টন। রসুনের ওজন ৩ হাজার ৮০০ কেজি এবং পেঁয়াজের ওজন ৪ হাজার ৫০০ কেজি। জব্দকৃত পণ্যগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
আটককৃত ১০ জনের মধ্যে একজন রোহিঙ্গা নাগরিক এবং বাকি নয়জন চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও বরিশালের স্থায়ী বাসিন্দা। তাদের নাম হলো: মো. আলী জহির (৫২), সাইফুল আলম (২৪), আবদুল গফুর (৫২), মো. ইলিয়াস (২১), ওসমান গনি (২৬), মনির হোসেন (২৫), সাহাবুদ্দীন (৪৫), জাকির হোসেন (৩২), মো. হৃদয় (১৮) ও মো. ফারুক (৩৭)।
কোস্টগার্ডের ভাষ্য, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ইউরিয়া সার, রসুন, পেঁয়াজসহ এসব পণ্য মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশে নেওয়া হচ্ছিল। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা জানতে আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জব্দ করা পণ্য, ট্রলার ও আটক ব্যক্তিদের টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।