আমাদের গরিব তালতলায়, কলোনির মসজিদেনামাজ পড়তে পড়তে ক্লান্ত হলে কার্পেটেশুয়ে থাকতাম শবে বরাতে!এই একটাই রাত, আমার দেখা যা জেগেথাকত সারা রাত, আল্লাহর খোঁজে।কখনো জিকিরে কখনো মায়ের বানানো সন্দেশগরুর মাংসের ঝোলের সুগন্ধে...দিনভর হালুয়া রুটির খোঁজে মানুষজন আসতআমাদের গরিব কলোনিগুলোর বাসায় বাসায়মসজিদ থেকে ভেসে আসা জিকিরের শব্দ ম মকরতসে এক অলৌকিক আশ্চর্যের রাত...

শবে বরাতে আমাদের মহল্লার কেউ কেউ আতশবাজিফোটাতকেউ মরিচা ছোটাতএই এক আশ্চর্যের আনন্দের দিন ও রাত ছিল আমাদেরঈদের দিনে নতুন কাপড় না পাওয়ার বেদনাছিল অনেকের। ছিল, কোরবানি দিতে না পারার বিষাদওঅনেকের বড় ঈদে...কিন্তু শবে বরাতে আমাদের গরিব তালতলায় অনেকহাসিঅনেক আনন্দ হতো, নক্ষত্রের মতো

রাত্রি দুইটার পরে, মসজিদের বারান্দায়ফেরেশতাদের সাথে দেখা হতোভিতর থেকে জিকিরের শব্দ, আর বাইরে আমাদেরঘুমে ঢুলো ঢুলো চোখঅবয়ব মনে পড়ে না, শুধু মনে পড়ে, তালতলারগরিব কলোনির ছাদে ফেরেশতারা নেমে আসতইয়া বড় তাদের ডানা, সফেদ সাদাশবে বরাতের রাত্রে...

শবে বরাতের জন্য বোমা বানাতে গিয়ে হাত কেটে গেলএক বড় ভাইয়ের একবারএকজন নামাজ পড়তে গিয়ে আর ঘরেই ফিরল নাআজীবনএকবার কবর জিয়ারতে গেল বন্ধুরা মাঝরাতে, নামাজেরশেষেএকবার বন্ধুরা জোছনা চুরি করতেও হাত বাড়াল চন্দ্রেরদিকে

নামাজ শেষে আব্বু এলেনআম্মু দিলেন ক্ষীরধবধবে জোছনা ভেদ করেদুনিয়াতে নামেফেরেশতা অস্থির।আম্মা হাসলে ভাবি চান্নি রাইত,এলেবেলে খেলেশবে বরাতের রাইতে দুয়েকটা জিনদলছুট, হালুয়া রুটির ঢোলে...