মুঠোফোনে পরিচয়ের পর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এক ফিনল্যান্ড প্রবাসী যুবক ও জামালপুরের এক নারীর মধ্যে। সেই ভালোবাসার টানেই ফিনল্যান্ড থেকে ছুটে এসেছেন সিমোলা মিকা নামের এক যুবক। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মিকাইল নাম ধারণ করে তিনি বিয়ে করেছেন শান্তিনা জাহান ওরফে সিমিকে (২৮)। কনের পরিবারের দাবি, উভয় পরিবারের সম্মতিতে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী তাঁদের এই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে।
গত দুই সপ্তাহ ধরে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সংসার করছেন মিকাইল ও শান্তিনা। কনে শান্তিনা জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের resident রফিকুল ইসলামের কন্যা। গত রোববার তাঁদের বিয়ের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়। ফিনল্যান্ড থেকে আসা এই বিদেশি বরকে দেখার জন্য শান্তিনাদের বাড়িতে ভিড় করছেন স্থানীয় অনেক মানুষ।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন বছর আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় শান্তিনার প্রথম স্বামী মৃত্যুবরণ করেন। এরপর তিনি তাঁর তিন বছর বয়সী শিশুসন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। বর্তমানে ওই সন্তানের বয়স পাঁচ বছর। সম্প্রতি ফিনল্যান্ডে বসবাসরত শান্তিনার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে সিমোলা মিকার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এরপর নিয়মিত মুঠোফোনে কথা বলার মাধ্যমে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন এবং বিষয়টি দুই পরিবারকে জানালে তাঁরাও এতে সম্মতি প্রদান করেন। এরপর সিমোলা মিকা বাংলাদেশে এসে বিয়ে করার প্রস্তুতি নেন।
বিয়ের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে গত ৯ সেপ্টেম্বর ফিনল্যান্ড সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র সংগ্রহ করেন সিমোলা মিকা। এরপর ২ অক্টোবর তিনি বাংলাদেশে পৌঁছান এবং স্বেচ্ছায় খ্রিষ্টধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে নিজের নাম পরিবর্তন করে মিকাইল রাখেন সিমোলা মিকা। এরপর কাজির মাধ্যমে ইসলামি ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে শান্তিনা জাহানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর থেকেই তাঁরা দৌলতপুর গ্রামে অবস্থান করছেন।
কনের পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৮ অক্টোবর মিকাইল ফিনল্যান্ডে ফিরে যাবেন। সেখানে গিয়ে শান্তিনা জাহান ও তাঁর সন্তানের ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁদের ফিনল্যান্ডে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে তাঁরা সন্তানকে নিয়ে একসঙ্গে সেখানে বসবাস করতে চান।
শান্তিনা জাহান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘ফিনল্যান্ডে আমার ফুফা, ফুফু ও তাঁদের মেয়ে থাকেন। তাঁদের মাধ্যমে আমাদের প্রথম পরিচয়। ওইখান থেকে সে (মিকাইল) আমাকে পছন্দ করে। এরপর ফোনে কথাবার্তা শুরু হয়। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের আলোচনা হয়। সবাই রাজি হলে বৈধভাবে বিয়ের জন্য সে সব কাগজপত্র প্রস্তুত করে। ধর্মের বিষয়টি নিয়ে আগেই কথা হয়েছিল। ফলে সে বিয়ের আগে সব আইন মেনে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। এতে সে-ও অনেক খুশি।’
কনের বাবা রফিকুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “দুজনের সম্মতিতে পারিবারিকভাবে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে হয়েছে। দুজন নতুন জীবন শুরু করেছে। তারা এখন অনেক খুশি। বাবা হিসেবে তিনি অনেক খুশি। মিকাইল তাঁদের জানিয়েছে, বাংলাদেশে এসে তিনি খুশি হয়েছেন। তাঁর এখানে ভালো লাগছে। তাঁরা দুজন সুখে-শান্তিতে সংসার করুক—এটাই তাঁদের চাওয়া।”
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, একজন বিদেশি নাগরিকের ওই গ্রামে এসে বিয়ে করার বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কিছু জানানো হয়নি।