পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা এবং ইউনিয়ন বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নাম স্থান পেয়েছে। তবে এই নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ আগে সার ব্যবসার অভিজ্ঞ ছিলেন কি না, তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তেলিখালী ইউনিয়নে ‘আজাদী করপোরেশন’ নামে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. মোস্তাফিজুর রহমান রুবেল। তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিব হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।

একইভাবে, ইকড়ি ইউনিয়নে হাওলাদার ট্রেডার্সের নামে সার ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হাওলাদার। গৌরীপুর ইউনিয়নে নাসির ট্রেডার্সের নামে নিয়োগ পেয়েছেন নাছির হাওলাদার। এছাড়া ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নে মেসার্স মাইশা এন্টারপ্রাইজের নামে নিয়োগ পেয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমীন। পাশাপাশি ভাণ্ডারিয়া পৌর শহরে মেসার্স আরমান এন্টারপ্রাইজের মোস্তফা কামাল এবং ধাওয়া ইউনিয়নে মেসার্স একতা স্টোরের মো. হাবিবুর রহমানও সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

উপজেলা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভাণ্ডারিয়ার সাতটি এলাকা (ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা) থেকে সার ডিলার নিয়োগের জন্য মোট ৩৪টি আবেদন জমা পড়েছিল। উপজেলা পর্যায়ে গঠিত বাছাই কমিটি প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য তিনজন করে যোগ্য আবেদনকারীর নাম সুপারিশ করে জেলা কমিটির কাছে পাঠিয়েছিল। কমিটি-সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে, সেই সুপারিশকৃত তালিকা থেকেই চূড়ান্তভাবে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সার ডিলারদের তালিকা থেকে নিয়োগপ্রাপ্তদের নাম নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এই পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারি বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে। যদিও প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কোনো বিধি লঙ্ঘনের প্রত্যক্ষ প্রমাণ বা তথ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

এই বিষয়ে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, উপজেলা বাছাই কমিটি প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে আবেদনকারীর নাম সুপারিশ করে জেলা কমিটির কাছে পাঠিয়েছিল এবং পরবর্তীতে জেলা কমিটিই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।

ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান বলেন, “উপজেলা কমিটি কাগজপত্র যাচাই করে জেলা কমিটির কাছে আবেদনকারীদের নাম পাঠিয়েছে। জেলা কমিটি সেখান থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। কে দলীয় বা কে দলীয় নয়, তা আমাদের জানার বিষয় নয়। সরকারি বিধি মোতাবেক তিনজনের নাম সুপারিশ করে পাঠানো হয়েছিল।”

অন্যদিকে, পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “আবেদনগুলো উপজেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটিতে যাচাই-বাছাই করা হয়। পরে তালিকা জেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়। জেলা মূল্যায়ন কমিটি আবেদনগুলো পর্যালোচনা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। সেখান থেকেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অন্য কোনোভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেই নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।”