নব্বইয়ের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক অর্জন এবং সেই আন্দোলনের চেতনাকে বুকে ধারণ করে যেকোনো ধরনের চক্রান্ত প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানুল্লাহ আমান। তার মতে, দেশের সচেতন নাগরিকরা রাজপথে থেকে সব ধরনের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেবেন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির capacity-তে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ৯০-এর সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের অন্যতম রূপকার এবং তৎকালীন গণতান্ত্রিক ছাত্রলীগের সভাপতি শহীদ সাইফুদ্দিন আহমেদ মনির ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম’ এই স্মরণসভার আয়োজন করে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে আমানুল্লাহ আমান বলেন, “ইতিহাস সাক্ষী দেয়—কোনো পলাতক ফ্যাসিস্ট শক্তি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর আর ফিরে আসতে পারেনি। বর্তমান চক্রান্ত ও হুংকার কোনো কাজে আসবে না; দেশের সচেতন জনগণ রাজপথেই সব ষড়যন্ত ভেস্তে দেবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ৭১ এবং ২৪ সালের পরাজিত শক্তিগুলো বর্তমানে একজোট হয়ে দেশে কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান, জনগণ এখন জাগ্রত। তারেক রহমানের সৎ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ বর্তমানে গণতন্ত্রের পথে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে এবং এই অগ্রযাত্রাকে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।

নব্বইয়ের রাজপথের স্মৃতিচারণ করে আমানুল্লাহ আমান বলেন, সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি ছিলেন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের এক অকুতোভয় সৈনিক। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শহীদ জেহাদের রক্তদানের পর মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ২২টি ছাত্র সংগঠনের নেতারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরাচার এরশাদের পতনের শপথ নিয়েছিলেন। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছিল। একইভাবে ২৪-এর রক্তক্ষয়ী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে জিয়া পরিবারের যোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমানের নেতৃত্বেই দেশে জনতার সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা সামনে রেখে যেকোনো উসকানিমূলক চক্রান্ত প্রতিহতের হুঁশিয়ারি দিয়ে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।” সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনেরা যাতে আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে তারেক রহমানের নির্দেশে বিএনপির নেতাকর্মী এবং দেশের সাধারণ মানুষ পাহারাদারের মতো ভূমিকা পালন করবেন। সারা দেশে তিন শিফটে আট ঘণ্টা করে নেতাকর্মীরা তাদের পাশে থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব ও ডাকসুর সাবেক জিএস খায়রুল কবির খোকন, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ডাকসুর সাবেক এজিএস নাজিম উদ্দিন আলম, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাগপার সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমান এবং ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) সাধারণ সম্পাদক খোকন চন্দ্র দাস প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা শহীদ সাইফুদ্দিন আহমেদ মনির স্মৃতি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তার সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।