শেখ হাসিনার শাসনকালে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গিয়েছিল বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি মনে করেন, এই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে বিএনপি ব্যাপক আত্মত্যাগ করেছে এবং রক্তঝরা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে লড়াই করেছে। তবে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপি আত্মত্যাগ করেছে এবং রক্তঝরা আন্দোলন করেছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি বরাবরই রাষ্ট্রীয় ও জনগণের স্বার্থের চেয়ে দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছে।”
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে ‘কমল কুঁড়ি’ আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। উক্ত অনুষ্ঠানে রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানের প্রসঙ্গটি সামনে চলে এলে রিজভী বলেন, “কোনো অন্যায়, অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যেতে পারে। তবে কাউকে মারতে যাওয়া কিংবা হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়। প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।”
আক্তারুজ্জামানের অতীত রাজনৈতিক আনুগত্যের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আক্তারুজ্জামান আগে বিএনপিতে ছিলেন। তবে তিনি কখনোই দলের শৃঙ্খলা মানেননি। গত ১৫-২০ বছর ধরে টেলিভিশনে প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে নানা আপত্তিকর কথা বললেও প্রধানমন্ত্রী কখনো তাকে কিছু বলেননি।”
সম্প্রতি বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া একটি অপ্রীতিকর ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক হিসেবে বর্ণনা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। তিনি বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এক সামরিক কর্মকর্তার ওপর হামলার চেষ্টা এবং নিম্নপদস্থ কর্মীদের গায়ে হাত তোলার অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ওই ব্যক্তি সম্প্রতি যে দলে যোগ দিয়েছেন, তা দুর্ভাগ্যজনক।”
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জামায়াত নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “তারা যেন ওই ব্যক্তিকে বহিষ্কারের জন্য আগেই বিবৃতি প্রস্তুত রাখেন।”
দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের গুরুত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়ে রিজভী বলেন, “রেমিট্যান্স দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এ অর্থের ওপর নির্ভর করে লাখ লাখ পরিবারের ভরণপোষণ চলে। প্রবাসীরা কখন টাকা পাঠাবেন, সেই অপেক্ষায় থাকেন তাদের স্বজনরা। রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকি দেশের মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। এ ধরনের বক্তব্য চরমভাবে দেশবিরোধী, মানবতাবিরোধী এবং জনগণের স্বার্থের পরিপন্থি।”
জামায়াত ইসলামের রাজনৈতিক আদর্শ ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন যে, এই দলটি কখনোই জাতীয় বা জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়নি, বরং সর্বদা দলীয় স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে। ১৯৭১, ১৯৮৬ এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এসব সময়েও তারা রাষ্ট্রীয় স্বার্থের আগে দলীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েছে।”
এর বিপরীতে বিএনপির অবস্থান বর্ণনা করে তিনি বলেন, বিএনপি সব সময় রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনার শাসনামলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বিএনপি ব্যাপক আত্মত্যাগ করেছে এবং রক্তঝরা আন্দোলন চালিয়েছে।