মুখে বিশেষ সুরে শিস দিয়ে ‘ময়না’ বলে ডাক দিতেই উড়ে আসে চারটি পায়রা। কোনোটি বসে হাতে, কোনোটি ঘাড়ে, কোনোটি আবার মাথায়। যে ডাকে, শুধু তার শরীরেই নয়, আশপাশে জড়ো হওয়া শিশু-কিশোরদের হাতেও নির্ভয়ে আশ্রয় নেয় পাখিগুলো। যশোর শহরের পৌর পার্কে গত সোমবার দুপুরে দেখা গেল এমন এক দৃশ্য।

এই পায়রাপ্রেমী তরুণের নাম আবু হুরায়রা (২০)। তিনি শহরের আশ্রম রোড এলাকার বাসিন্দা। বাবার মোটরগাড়ির ইঞ্জিন অয়েল ব্যবসায় সহযোগিতা করেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই তাঁর পাখি পোষার ঝোঁক ছিল।

প্রায় দুই বছর আগে পাঁচ হাজার টাকায় ‘স্যাটিনেট’ জাতের এক জোড়া পায়রা কিনে লালন-পালন শুরু করেন হুরায়রা। পরে আরও চার হাজার টাকা খরচ করে একই জাতের দুটি ছানা সংগ্রহ করেন। এখন এই চার পায়রা নিয়েই তিনি শহরের নানা জায়গায় ঘুরে বেড়ান।

পৌর পার্কে বেড়াতে আসা প্রিপারেটরি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিরাজুল ইসলাম, অর্পণ দাস, শাহান নূরসহ অনেকেই হুরায়রার কাছে ভিড় জমায়। পায়রাগুলো নিজেদের হাতে-ঘাড়ে বসিয়ে ছবি তোলায় মেতে ওঠে তারা।

মিরাজুল বলে, ‘বিষয়টা খুবই ইন্টারেস্টিং। তাই পায়রা হাতে নিয়ে পায়রাওয়ালার সঙ্গে ছবি তুললাম। খুব ভালো লাগল।’

পায়রা পোষার কৌশল জানতে চায় শাহান নূর। জবাবে হুরায়রা বলেন, স্যাটিনেট জাতের পায়রা স্বভাবতই শান্ত ও পোষমানা প্রকৃতির। আলাদা প্রশিক্ষণের দরকার হয় না। নিয়মিত যত্ন, স্নেহ আর ভালোবাসা পেলেই এরা মানুষের কথা বুঝতে শেখে।

দেশি পায়রার মতো ধান, গম বা ভাত খায় না স্যাটিনেট। হুরায়রা জানান, এদের খাদ্যতালিকায় রাখতে হয় বিশেষ শস্যদানা—যেমন বাজরা ও ভেক্কি (কলাইজাতীয় শস্য)। এসব বাজার থেকে কিনে আনতে হয়।

স্যাটিনেট জোড়ার প্রথম ছানার অপেক্ষায় আছেন হুরায়রা। ইতিমধ্যে দুটি ডিম পেড়েছে একটি পায়রা। তবে ডিম দুটি তা দেওয়ার (ইনকিউবেশন) জন্য রাখা হয়েছে অন্য একটি পায়রার কাছে। তাঁর আশা, ১৮ থেকে ২০ দিনের মধ্যে ছানা ফুটবে, আর দেড় মাসের মধ্যে সেগুলো পূর্ণাঙ্গ হয়ে উঠবে।

শখের এই পায়রা থেকে ছানা বিক্রি করে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক পায়রার খামার গড়ার ইচ্ছা আছে হুরায়রার। বাবার ব্যবসার কাজে মাঝেমধ্যে গোপালগঞ্জে যেতে হয়। বাকি সময়টা কাটে যশোর শহরে, প্রিয় পায়রাদের সঙ্গে। পায়রা লালন-পালন ও বংশবৃদ্ধির পাশাপাশি আরেকটি স্বপ্ন আছে তাঁর। নিজের জমানো টাকায় তিনি একসময় দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করতে চান।