দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে জানুয়ারি ২০২৭ সেশনের পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উচ্চতর গবেষণা এবং একাডেমিক উৎকর্ষ অর্জনে আগ্রহী বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তরুণ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক এবং জ্যেষ্ঠ পেশাজীবীদের জন্য এটি একটি আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ। ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত এই আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো প্রবেশিকা বা এন্ট্রান্স পরীক্ষা ছাড়াই আবেদন ও ভর্তির সুযোগ প্রদান করা হচ্ছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে তাদের আবেদন জমা দিতে পারবেন।

সার্কভুক্ত আটটি দেশের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো, বিশ্বমানের শিক্ষক মণ্ডলী এবং বহুমাত্রিক গবেষণার উপযোগী পরিবেশ। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়টি অন্যতম সেরা গন্তব্য হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের পিএইচডি গবেষক কাজী অরুণিম রহমান তাঁর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, ‘এটি শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, এই ক্যাম্পাসে আছে পুরো দক্ষিণ এশিয়ার বিচিত্র সংস্কৃতির অনন্য মিলনমেলা। এখানকার আন্তর্জাতিক মানের ফ্যাকাল্টি এবং আধুনিক ল্যাব ও লাইব্রেরির সুবিধাগুলো বিশ্বমানের গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত করে। আন্তর্জাতিক গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বৈশ্বিক সমস্যাগুলোকে দেখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে আমার। এখানে ভর্তির সুযোগ বাংলাদেশি তরুণ গবেষকদের জন্য এক বিশাল সম্ভাবনা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি সত্যিই এক অসাধারণ প্ল্যাটফর্ম।’

সার্কভুক্ত দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মানের এমন একটি একাডেমিক কমিউনিটিতে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশি উদীয়মান গবেষকদের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভর্তি ও আবেদনের প্রক্রিয়া

জানুয়ারি ২০২৭ সেশনের পিএইচডি প্রোগ্রামে সরাসরি ভর্তির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি এখানে এক্সিকিউটিভ পিএইচডি করার বিশেষ সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা ও পেশাজীবীদের কথা মাথায় রেখে এই এক্সিকিউটিভ পিএইচডি প্রোগ্রামটি রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের পেশাজীবীরা তাঁদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে উচ্চতর দক্ষতা অর্জন ও গবেষণার উদ্দেশ্যে এখানে পিএইচডি করতে পারেন। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক, সরকারি-বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানী ও গবেষণা কর্মকর্তা, সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) ক্যাডার কর্মকর্তা, বিচারক, প্রশাসন, বহুজাতিক ও দেশীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বহুজাতিক কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, এনজিও বা আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তা ও তরুণ গবেষকেরা এই সুযোগে আবেদন করতে পারবেন।

যেসব বিষয়ে গবেষণার সুযোগ রয়েছে

বিজ্ঞান, কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, আইন ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের বিভিন্ন শাখায় পিএইচডি করার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে ভর্তির জন্য উন্মুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে বায়োটেকনোলজি, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, লিগ্যাল স্টাডিজ, গণিত, সমাজবিজ্ঞান, মিডিয়া, আর্টস অ্যান্ড ডিজাইন, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ইংরেজি।

আবেদন প্রক্রিয়া ও যোগাযোগ

আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর। ভর্তির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

ভর্তিসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য, অনুসন্ধান ও সহায়তার জন্য শিক্ষার্থীরা ই-মেইলে ([email protected]) কিংবা হোয়াটসঅ্যাপে (+৯১-৯৮১৮১৮৫২২২) যোগাযোগ করতে পারবেন। সার্কভুক্ত দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মানের এমন একটি একাডেমিক কমিউনিটিতে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশি উদীয়মান গবেষকদের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে।