প্রশ্নপত্র ফাঁসের পরও আগের নিয়োগ কমিটি বহাল রেখে উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের স্থগিত পরীক্ষা আগামী শুক্রবার নিতে যাচ্ছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং কমিটির অন্তত একজন সদস্য মনে করেন, পরীক্ষার্থীদের আস্থা ফেরাতে কমিটি পুনর্গঠন করা প্রয়োজন।

গত শনিবার এই পদে নিয়োগের জন্য ঢাকার ৯৮টি কেন্দ্রে প্রিলিমিনারি (বাছাই) পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। ২৪২টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার প্রার্থী। পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মূল প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত করে অধিদপ্তর।

স্থগিত পরীক্ষা ১৬ অক্টোবর শুক্রবার বেলা তিনটা থেকে চারটা পর্যন্ত নেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্তে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল আলম খানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তারা আরও দুই দিন সময় চেয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার বক্তব্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নিয়োগ কমিটি এড়াতে পারে না।

তদন্ত কমিটির সভাপতি মাহফুজুল আলম খান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, তদন্তের আরও কিছু কাজ বাকি থাকায় দুই দিন বাড়তি সময় চেয়েছেন। সব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন সেসব তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে। তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ থেকে একজন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞকে এ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র তৈরির সঙ্গে যুক্ত কমিটির সবার বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার বক্তব্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নিয়োগ কমিটি এড়াতে পারে না। কমিটির একজন সদস্যও মুক্তকণ্ঠকে বলেছেন, কমিটি পুনর্গঠন করলে পরীক্ষার্থীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা যেত। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, কমিটির কেউ কেউ সরে যাওয়ার অনুরোধ করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোতাহার হোসেন গতকাল রাতে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসে কারা জড়িত, তা এখনো জানা যায়নি। তাই এ কমিটির ওপর দায় দেওয়া যায় না। তা ছাড়া নতুন কোনো কমিটি করার এখতিয়ার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নেই। এটি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় করতে পারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়ে। সেটি করা হয়নি। তিনি বলেন, নতুন করে যেভাবে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে, তাতে বিভাগীয় নিয়োগ কমিটির (ডিপিসি) কিছু করার সুযোগ নেই।

সরকার চাইলে নিয়োগ কমিটি পুনর্গঠন করতে পারত। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর বর্তমান নিয়োগ কমিটি নিশ্চয়ই সতর্ক থাকবে। নতুন কোনো বিতর্ক হোক, তারা চাইবে না।

নিয়োগ কমিটির বিষয়ে মুঠোফোনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, এরপর খুদে বার্তা পাঠানো হয়। তবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি বিভাগীয় নিয়োগ কমিটি (ডিপিসি) রয়েছে। এ কমিটির সভাপতি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের যুগ্ম সচিব ডি এম আতিকুর রহমান। তিনি অধিদপ্তরের প্রশাসন ও অর্থ শাখার পরিচালক। সদস্যসচিব যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) আতিকুর রহমান। কমিটির অন্য তিন সদস্য হচ্ছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মিজানুর রহমান, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) একজন সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন সদস্য।

স্থগিত পরীক্ষা ১৬ অক্টোবর শুক্রবার বেলা তিনটা থেকে চারটা পর্যন্ত নেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১৬ অক্টোবর নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি ও ছাপার স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্নপত্র তৈরি ও ছাপা হবে সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে। আগের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি ও ছাপা হয়েছিল মতিঝিলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যালয়ে।

সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণকেন্দ্রের (বিপিএটিসি) সাবেক রেক্টর আবদুল আউয়াল মজুমদার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, সরকার চাইলে নিয়োগ কমিটি পুনর্গঠন করতে পারত। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর বর্তমান নিয়োগ কমিটি নিশ্চয়ই সতর্ক থাকবে। নতুন কোনো বিতর্ক হোক, তারা চাইবে না।