প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর অতিথি গবেষণা কার্যক্রমের আওতায় মোট ১৭১টি প্রস্তাবের মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে চারটি গবেষণা প্রস্তাব নির্বাচন করা হয়েছে। নির্বাচিত এই চার গবেষক আগামী ছয় মাসের মধ্যে তাদের নির্ধারিত গবেষণাকাজ সম্পন্ন করবেন। এই কার্যক্রমের জন্য প্রত্যেক গবেষক তিন লাখ টাকা করে গবেষণা বৃত্তি পাবেন।

নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও মান নিশ্চিত করতে পিআইবি-র একজন প্রতিনিধি এবং দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন অধ্যাপককে নিয়ে তিন সদস্যের একটি জুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। এই জুরি বোর্ড তিন পৃথক ধাপের মাধ্যমে প্রস্তাব মূল্যায়ন, সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং উপস্থাপনা পর্যালোচনার পর চূড়ান্তভাবে এই চারটি বিষয়কে নির্বাচন করে।

চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত গবেষক এবং তাদের গবেষণার বিষয়গুলো নিম্নরূপ:

১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তাশাহুদ আহমেদ রাফিম। তার গবেষণার বিষয় ‘আন্তর্জাতিক পরিসরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চিত্রায়ণ: দক্ষিণ এশীয় গণমাধ্যমের তুলনামূলক বিশ্লেষণ’।

২. যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের ফিলিপ মেরিল কলেজ অব জার্নালিজমের সহযোগী অধ্যাপক নাঈমুল হাসান। তিনি গবেষণা করবেন ‘বাংলাদেশের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রশ্নে গণমাধ্যমের ভূমিকা: একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিশ্লেষণ (২০০৯-২০২৪)’ বিষয়ে।

৩. দৃক ট্রাস্টের গবেষক মীর হুজাইফা আল মামদূহ। তার গবেষণার বিষয় ‘টিকটক ও ডিজিটাল শ্রেণিগত বিভাজন: প্রান্তিকতার অভিজ্ঞতা’।

৪. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ মুযযাম্মিল হক। তিনি গবেষণা করবেন ‘সংকটকালীন তথ্যপ্রবাহ ও ডিজিটাল অ্যাক্টিভিজম: ২০২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিউ মিডিয়ার ব্যবহার ও বাস্তবতা’ বিষয়ে।

পরিবর্তনশীল গণমাধ্যম, সাংবাদিকতা, ভুয়া তথ্য, মিস ইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন, ডিজিটাল সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমে ইতিহাসের বয়ান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারসহ সমসাময়িক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণাকে উৎসাহিত করতে এই বিশেষ কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই লক্ষ্য নিয়ে ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট দেশের চারটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আগ্রহী বাংলাদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে গবেষণা প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছিল।

নির্ধারিত সময় ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে দেশ ও বিদেশ থেকে মোট ১৭১টি প্রস্তাব জমা পড়ে। জমা পড়া প্রস্তাবগুলোর মধ্য থেকে কাঠামোর মান, বিষয়বস্তু এবং বাজেটের মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে ৬০টি গবেষণা প্রস্তাব বাছাই করা হয়। পরবর্তী ধাপে জুরি বোর্ড মান যাচাইয়ের মাধ্যমে সেই ৬০টি থেকে ২১টি গবেষণা প্রস্তাব বাছাই করেন। চূড়ান্ত পর্যায়ে বাছাইকৃত ২১টি প্রস্তাব থেকে ১২টি প্রস্তাবের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা হয় এবং গবেষকদের সাক্ষাৎকার ও উপস্থাপনা মূল্যায়নের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত চারটি প্রস্তাব নির্বাচন করা হয়।

কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রাথমিকভাবে পাঁচটি প্রস্তাব নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও মানগত সীমাবদ্ধতার কারণে চারটির বেশি প্রস্তাব চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। নির্বাচিত গবেষকদের খুব শীঘ্রই গবেষণা বৃত্তির প্রথম কিস্তির অর্থ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি গবেষণার মানোন্নয়নে প্রত্যেক গবেষককে একজন করে সুপারভাইজারের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।