সরকার বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য তিনি ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেটকে দায়ী করে অভিযোগ জানিয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার শরীয়তপুর জেলা শহরের পৌরসভা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক নাগরিক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সারের ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং বাণিজ্যের নামে অনিয়মের প্রতিবাদ জানাতে জেলা এনসিপি এই সভার আয়োজন করে।

সভায় নাহিদ ইসলাম বলেন, ১ হাজার ২০০ টাকার এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে ১ হাজার ৮০০ টাকা করা হয়েছে। তবে সেই নির্ধারিত দামেও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে একটি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৬০০ টাকায় পৌঁছেছে। তিনি অভিযোগ করেন, সিন্ডিকেট করে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে এবং এই পুরো সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে বিএনপি।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘বিদেশে আওয়ামী লীগ, দেশে বিএনপি—এ দুই শক্তির কারণে বাংলাদেশের মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পাচ্ছে না। বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, সে সম্ভাবনা নষ্ট হয়েছে। ক্ষমতায় বসে বিএনপি সরকার আবার দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, সিন্ডিকেট সবকিছুই ফিরিয়ে এনেছে।’

বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে কথা বলে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনের আগে হাত মিলিয়েছিল বিএনপি। তারা একটা সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনে জয়লাভ করেছে। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের, চাঁদাবাজদের এখন নিজেদের কাজে ব্যবহার করছে। ফলে আমরা দেখছি যে চাঁদাবাজ আর স্বৈরাচার একাকার হয়ে যাচ্ছে। যে গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে, সেই গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা থেকে বিএনপি অনেক দূরে সরে গেছে।’

নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ অভিযোগ করেন, কাউকে নমিনেশন তুলতে না দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই শরীয়তপুর বার নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা সেটা হতে দেব না। আপনারা যাঁরা জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছেন, আপনারা যাঁরা দেশপ্রেমিক ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁরা এলাকার উন্নয়ন করতে চান, মানুষের কাজ করতে চান; আপনারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিন। স্বৈরাচার, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করুন।’

নাগরিক সভায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে সরকার গঠন করায় তাঁরা আশা করেছিলেন, দলটি বাংলাদেশের মানুষের সরকার হয়ে উঠবে। কিন্তু বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়োগ ও সারের ডিলার নিয়োগের সময় সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

সারজিস আলম অভিযোগ করেন, সারের ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা বা যোগ্যতার চেয়ে দলীয় পরিচয় এবং সংসদ সদস্যদের ছেলে ও আত্মীয়স্বজনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি মন্তব্য করেন, বিএনপি দেশের সাধারণ মানুষের সরকার না হয়ে কেবল নিজেদের দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

জেলা এনসিপির আহ্বায়ক রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই নাগরিক সভায় আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীব, হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আবদুল্লাহ মো. হোসাইন এবং শরীয়তপুর জেলা এনসিপির সদস্যসচিব সবুজ তালুকদার প্রমুখ।