রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম হওয়ায় ক্রেতাদের চরম ভোগান্তির পাশাপাশি নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে।

মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের একজন এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রেতা রবিউল ইসলাম এই সংকটের কথা জানান। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে মুক্তকণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আজ আমার এলপিজি সিলিন্ডারের অর্ডার আছে ২০০টির। কোম্পানি দিছে ৫০টি। এদিকে আমার কাস্টমার একটার পর একটা কল দিচ্ছে। কীভাবে বোঝাই, সংকটের কথা!” রবিউল ইসলামের দাবি, বেশ কিছু দিন ধরেই এলপিজি সিলিন্ডারের এই সংকট চলছে এবং গতকাল থেকে চাহিদার পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

একই পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন ধানমন্ডির শংকরের দিপু এন্টারপ্রাইজের মালিক নাহিদ ইসলাম। তিনি জানান, তাঁর দোকানে প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০টি সিলিন্ডারের চাহিদা থাকে। তবে বর্তমান সংকটের কারণে তিনি বলেন, “আমার দৈনিক সিলেন্ডারের চাহিদা ৭০ থেকে ৮০টা। অথচ আজকে পাইছি, মাত্র ২০টা। অনেক মানুষ কল দিচ্ছে। কিন্তু অর্ডার নিতে পারছি না।”

রাজধানীর আদাবর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব এলপিজি বিক্রয় কেন্দ্রই একই সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দোকান মালিক ও কর্মীদের ভাষ্যমতে, ক্রেতারা ফোনে অর্ডার দিচ্ছেন অথবা সশরীরে দোকানে আসছেন। তবে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় খুব অল্প সংখ্যক ক্রেতা সিলিন্ডার পাচ্ছেন, বাকিদের ফিরে যেতে হচ্ছে। ফার্মগেটের বিক্রেতা মো. হেদায়েতুল্লাহ জানান, যাঁরা আগে অর্ডার দিয়েছেন তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং নতুন অর্ডারগুলো লিখে রাখা হচ্ছে, সিলিন্ডার এলে তা সরবরাহ করা হবে।

এদিকে, নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি। গত ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল। তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডারের জন্য ক্রেতাদের ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে। বর্তমানে দোকানে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মোহাম্মদপুরের টিক্কাপাড়া এলাকায় অবস্থিত বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম রাখা হয়েছে ২ হাজার ২০০ টাকা এবং ৫ কেজির সিলিন্ডার বোতলসহ ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া সেখানে ৪৫ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম চাওয়া হচ্ছে ৬ হাজার ৩০০ টাকা। ওই দোকানের কর্মচারী সাগর হোসেন জানান, “আজকে ১২ কেজির ৪০টা সিলিন্ডারের অর্ডার আছে। কিন্তু একটা গাড়ি আসছে ২০টা নিয়ে। মানুষ এত বেশি কল দিচ্ছে, অনেককেই দিতে পারছি না।”

অন্যদিকে, এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারা দেশে দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সমিতি জানিয়েছে, দাবি মানা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।

ব্যবসায়ীদের এই ধর্মঘটের ঘোষণায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ধানমন্ডির শংকর এলাকায় ফুটপাতে চা বিক্রি করা রাইসুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা দিপু এন্টারপ্রাইজে সিলিন্ডার কিনতে এসে বলেন, তাঁর বর্তমান সিলিন্ডারে আরও দুই-তিন দিন চলবে। তবে দোকান বন্ধের খবর শুনে তিনি আগেভাগেই সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে এসেছেন। তিনি জানান, গ্যাস না পেলে তাঁকে দোকান বন্ধ রাখতে হবে।