তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবসায়ীদের ওপর চলমান হয়রানির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (১৫ ও ১৬ অক্টোবর) সারা দেশে সব এলপি গ্যাসের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের ন্যায্য দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হলে টানা দুই দিন ধর্মঘটের পর আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হতে পারে।

আজ সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির কথা জানান এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. সেলিম খান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, টানা দুই দিন সারা দেশে এলপি গ্যাসের দোকান বন্ধ থাকবে।”

এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি তাদের বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পরিবেশকদের কমিশনের পরিমাণ বাড়ানো। ব্যবসায়ীদের দাবি, কোনো কোম্পানি যেন নিজেদের ইচ্ছেমতো মাসে একাধিকবার গ্যাসের দাম বাড়াতে না পারে। যদি দাম বাড়ানো প্রয়োজন হয়, তবে তা অবশ্যই বিইআরসির মাধ্যমে হতে হবে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে যেসব কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, তাদের সিলিন্ডারে গ্যাস ভরার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভোক্তা সংরক্ষণ অধিকার অধিদপ্তরের মাধ্যমে আরোপিত অযৌক্তিক জরিমানা বন্ধ করার দাবিও তারা জানিয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বৃদ্ধি করে। নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হয়। তবে সরকারি নির্ধারিত দামের বিপরীতে বাজারে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে ক্রেতাদের ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এলপিজি পরিবেশকদের দাবি, তাদের কমিশন না বাড়ানো হলে নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি করা সম্ভব হবে না। এই প্রেক্ষিতে, প্রতি সিলিন্ডারে কমিশনের পরিমাণ ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করার অনুরোধ জানিয়ে গত ৮ অক্টোবর বিইআরসিতে চিঠি পাঠিয়েছে তারা।