মূল শহরের ঘিঞ্জি পরিবেশ ছেড়ে এখন পরিকল্পিত আবাসনের দিকে ঝুঁকছেন ক্রেতারা। ঢাকার পাশাপাশি জলসিঁড়ির মতো পরিকল্পিত এলাকায় নিজেদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান শেলটেক। প্রতিষ্ঠানটি সেখানে একসঙ্গে বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে। মূল ঢাকা থেকে সরে এসে জলসিঁড়িতে প্রকল্প নেওয়ার বিষয়ে শেলটেকের প্রতিনিধি তানভীর আহমেদ জানান, “এটি মূল ঢাকা থেকে সরে যাওয়া নয়; বরং পরিকল্পিত আবাসনে আমাদের উপস্থিতি বাড়ানো। জলসিঁড়ির পরিকল্পিত সড়ক, উন্মুক্ত পরিসর ও সবুজ পরিবেশে সমন্বিতভাবে আবাসন গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২১টি প্রকল্পে মোট ১৬৮টি আবাসিক ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি তলায় একটি করে প্রশস্ত অ্যাপার্টমেন্টের পাশাপাশি রাখা হচ্ছে কমিউনিটি স্পেস ও ছাদবাগান। তানভীর আহমেদের মতে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, পারিবারিক স্বাচ্ছন্দ্য এবং পরিকল্পিত পরিবেশের সমন্বয়ে এই প্রকল্পগুলো গড়ে তোলা হচ্ছে।
গত পাঁচ বছরে ঢাকার আবাসন খাতের ক্রেতাদের আচরণ ও চাহিদার পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তানভীর আহমেদ বলেন, “আমার দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ক্রেতার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতিতে। ক্রেতারা এখন স্মার্টলি ভাবছেন। শুধু ঠিকানা বা বর্গফুট নয়, আলো–বাতাস, নিরাপত্তা, যাতায়াত, রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ইত্যাদি মিলিয়ে একটি প্রপার্টির মূল্য বিচার করা জরুরি হয়ে উঠেছে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, ক্রেতাদের চাহিদা এখন বহুমুখী। কেউ বড় পারিবারিক পরিসর খুঁজছেন, আবার কেউ সীমিত বাজেটে সুন্দর নকশার আবাসন চাইছেন। বাণিজ্যিক জায়গার ক্ষেত্রে লোকেশন ও আধুনিক ফিচারের গুরুত্ব বাড়ছে। ভিন্ন ভিন্ন চাহিদার সঙ্গে দামের ভারসাম্য রক্ষা করে নির্মাণ মান ও নিরাপত্তায় আপস না করে আধুনিক প্রকল্প নির্মাণ করাই এখন তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
আবাসন মানে কেবল বর্গফুট বিক্রি নয়, বরং জীবনযাপনের একটি অভিজ্ঞতা প্রদান করা। ১৯৮৮ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকেই শেলটেক এই দর্শনে বিশ্বাসী। তানভীর আহমেদ বলেন, “১৯৮৮ সালে যাত্রার শুরু থেকেই আমাদের দর্শন ছিল মানুষের জন্য নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য আবাসন তৈরি করা। সেখানে আলো–বাতাস থাকবে, পরিবারের সদস্যদের গোপনীয়তা থাকবে, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার সুযোগ থাকবে এবং কমার্শিয়াল স্পেসের ক্ষেত্রে ব্র্যান্ড ভিজিবিলিটি ও পজিশনিং থাকবে।” তাই নকশার পাশাপাশি কমিউনিটি স্পেস, সবুজায়ন, শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা এবং হস্তান্তরের পরবর্তী সেবাকে তারা আবাসনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।
ভবিষ্যৎ আবাসন প্রকল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও তথ্যপ্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, নকশার বিশ্লেষণ, কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে এআই-এর বড় সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রকৌশলগত সিদ্ধান্তে বিশেষজ্ঞের যাচাই অপরিহার্য বলে মনে করেন তিনি। প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে শেলটেকের কর্মীদের জন্য ২০২৬ সালের জুনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারবিষয়ক প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া লিগ্যাসি প্লাজায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা ও আধুনিক ভবন ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ফ্ল্যাটের দাম সাশ্রয়ী করার উপায় সম্পর্কে তানভীর আহমেদ স্পষ্ট করে বলেন, নিরাপত্তা বা নির্মাণসামগ্রীর মান কমিয়ে দাম কমানো সম্ভব নয়। বরং জমির দক্ষ ব্যবহার, অপ্রয়োজনীয় জায়গার অপচয় রোধ, কার্যকর নকশা এবং নির্মাণে অপচয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ব্যয় কমানো সম্ভব। তিনি মনে করেন, ছোট কিন্তু ব্যবহারযোগ্য অ্যাপার্টমেন্ট, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব এবং সাশ্রয়ী দীর্ঘমেয়াদি ঋণ আবাসনকে আরও সহজলভ্য করতে পারে। তার মতে, কেবল ক্রয়মূল্য নয়, বরং যাতায়াত, বিদ্যুৎ ও রক্ষণাবেক্ষণের দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় বিবেচনা করলেই প্রকৃত সাশ্রয় বোঝা যায়।