চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা ধরে নিজ দপ্তরে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের এক কর্মসূচির মুখে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে তিনি ভেতরে আটকা পড়েন। পরবর্তীতে সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বর্তমান উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি জানান।

রাত ১২টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। উপাচার্যসহ ভবনের ভেতরে থাকা অন্যান্য ব্যক্তিরাও এই অবরুদ্ধ পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়। তবে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদে এবং তাঁকে পুনরায় পদে ফিরিয়ে আনার দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বাত্মক ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন। শিক্ষার্থীদের এই দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করছেন। এর ফলে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম, পরীক্ষা এবং অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী, সোমবার সকাল নয়টার দিকে উপাচার্য প্রশাসনিক ভবনের ফটকের তালা ভেঙে চুয়েট ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে নিজের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২টা পর্যন্ত তাঁকে ভবন ছেড়ে চলে যাওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি বের হয়ে না আসায় শিক্ষার্থীরা ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।

এই ঘটনায় উপাচার্যের পাশাপাশি চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ ও তাঁর সহযোগীরা এবং কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীও ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। এরপরই শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানিয়েছেন যে তাঁদের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। একই সাথে তাঁরা নতুন করে ‘সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি’ পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের এক যৌথ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে বেলা সোয়া তিনটায় তিন সংগঠনের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে ‘সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি’র কথা জানানো হয়।

তিন সংগঠনের নেতারা জানান, নবনিযুক্ত উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশকে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা ‘সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি’ পালন করবেন। তাঁদের পূর্বঘোষিত দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতির পাশাপাশি এই অসহযোগ কর্মসূচি চলবে। তাঁরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, নতুন উপাচার্যকে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে তাঁরা কোনো ধরনের সহযোগিতা করবেন না।

সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাউজানের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা চুয়েট ক্যাম্পাসে এসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন। এই সময়ে তিনি অবরুদ্ধ উপাচার্যসহ ভেতরে থাকা অন্যদের জন্য বিদ্যুৎ, পানি ও খাবারের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান। শিক্ষার্থীরা জানান, ভেতরে খাবার ও পানি সরবরাহ করা হয়েছে, তবে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়া হবে না।

এ সময় যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন মূলত উনার ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে ছিল না। কিন্তু তিনি ক্যাম্পাসে আসার আগেই আমাদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন আটকে দিয়েছিলেন। আজ তালা ভেঙে অফিসে প্রবেশ করেছেন এবং চুয়েটের বাসে হামলা করিয়েছেন। এখন আর কোনো আপস নয়, আমরা সরাসরি তাঁর পদত্যাগ চাই। তিনি পদত্যাগ করলেই সসম্মানে বিদ্যুৎ, পানিসহ সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন।’