শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলমান আন্দোলনের ফলে চরম অচলাবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। দীর্ঘ ১৯ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনে এখনো তালা ঝুলছে। এই অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই দুই দিনের জন্য উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে। আগামী রোববার থেকে তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানানো হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম এই দায়িত্ব প্রদানের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানান, বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি কর্তৃপক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, ডিন এবং বিভিন্ন দপ্তর প্রধানকে ই-মেইলের মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে। অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে ১১ ও ১২ অক্টোবর, দুই দিনের জন্য রুটিন দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিষয়টি জানিয়েছি।’
উল্লেখ্য যে, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে চুয়েটের উপাচার্য পদে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগের প্রতিবাদে পরদিন থেকেই শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন শুরু করেন। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কর্মবিরতিতে যোগ দেন। বিক্ষোভের অংশ হিসেবে উপাচার্য দপ্তরের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে এখন পর্যন্ত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। তবে তিনি জানিয়েছেন, ২৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর যোগদানপত্র পাঠিয়ে তিনি উপাচার্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন।
চুয়েট সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি সভায় অংশ নিতে দুই দিনের জন্য ঢাকায় অবস্থান করবেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। তাঁর এই অনুপস্থিতির সময়েই অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে রুটিন দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রুটিন দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে ক্যাম্পাসের শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক করার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক আরাফাত রহমান। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁদের যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনা যায়, সে ব্যাপারে বোঝানোর চেষ্টা করব।’
এদিকে, এই প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাফিস হাসান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘নতুন উপাচার্য কাকে কী দায়িত্ব দিলেন, সেটি আমাদের আন্দোলনে কোনো প্রভাব ফেলবে না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা সায়েম স্যারকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করছি, এই আন্দোলন চলবে, শাটডাউন কর্মসূচিও চলবে। উপাচার্য ভবনেও তালা থাকবে। সেই তালা শুধু সায়েম স্যারই খুলতে পারবেন।’