ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই অনিয়মের দায়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছেন বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা।

একই দাবিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কয়েক হাজার মানুষ সুপ্রিম কোর্টের দিকে যাত্রা করেন। এই বিশাল মিছিলে রাহুলের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরা। তাঁদের মূল দাবি ছিল জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাঁর পদত্যাগ নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদনকারী নেতাদের তালিকায় রয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূল কংগ্রেসের সৌগত রায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী প্রসাদ যাদব।

আবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়াটিতে নানা ধরনের অনিয়ম ও কারচুপি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে মিছিলটি তিলক মার্গ হয়ে সুপ্রিম কোর্টের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। তবে ভগবান দাস রোডে পৌঁছাতেই পুলিশ মিছিলকারীদের পথরোধ করে বাধা দেয়। পুলিশের এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে বিক্ষোভকারীরা সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন।

পুলিশি বাধা সত্ত্বেও হাজারো মানুষ ভগবান দাস রোড ও তার আশপাশের এলাকায় অবস্থান করে বিক্ষোভ চালিয়ে যান। মিছিল শুরুর আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী জানান, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কোনো আলাদা আন্দোলন হচ্ছে না, বরং এটি একটি সমন্বিত প্রতিবাদ।

রাহুলের ভাষায়, ‘আলাদা কোনো প্রতিবাদ নেই। জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর জন্য একটিই প্রতিবাদ চলছে। এরপর প্রধানমন্ত্রী, অমিত শাহের পালা। আমরা থামব না।’

কংগ্রেস নেতা আরও অভিযোগ করেন যে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্বাধীনভাবে কাজ করছেন না; বরং তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের চাপের মুখে কাজ করছেন।

এর আগে গতকাল রোববার ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা দিল্লি পুলিশের কাছে একটি চিঠি পাঠান। ভোটার তালিকার এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য তাঁরা নতুন একটি তারিখ চেয়েছিলেন।

বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে দিল্লি পুলিশ বিকল্প তিনটি স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছিল, যা হলো রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড।

আজ সোমবার কংগ্রেসের এই বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে দিল্লির ছয়টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বহির্গমন গেট বিকেল চারটা পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বন্ধ থাকা স্টেশনগুলো হলো জনপথ, মান্ডি হাউস, বারাখাম্বা রোড, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, রাজীব চক ও প্যাটেল চক।

দিল্লি মেট্রোরেল করপোরেশন জানিয়েছে, ওই স্টেশনগুলোতে ইন্টারচেঞ্জ বা এক লাইন থেকে অন্য লাইনে ট্রেন বদলের সুবিধা চালু রাখা হয়েছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছিল।

এদিকে, গতকাল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে যেন দিল্লির মেট্রো পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা হয় এবং ইন্টারনেট সংযোগ নিরবচ্ছিন্ন থাকে। আদালত স্পষ্ট করে বলে, যদি কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, তবে তা সংবিধানের ১৯(২) অনুচ্ছেদে জনশৃঙ্খলা রক্ষার যে বিধান রয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।