চালকের আসন সম্পূর্ণ ফাঁকা, নেই কোনো স্টিয়ারিং হুইল কিংবা প্যাডেলের জটিলতা। কেবল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ওপর ভর করেই দ্রুত গতিতে গন্তব্যের দিকে ছুটছে গাড়ি। চালক ছাড়াই যাত্রী পরিবহনে সক্ষম এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর গাড়িগুলোই মূলত ‘রোবোট্যাক্সি’। স্মার্টফোনের মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে রাইড বুক করলেই এই গাড়িটি নির্দিষ্ট স্থানে এসে যাত্রীকে সংগ্রহ করে এবং গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। বর্তমানে ওয়েমো, বাইডু, টেসলা কিংবা জুক্সের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলো এই ধরনের প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা প্রদান করছে।
রোবোট্যাক্সির মূল চালিকাশক্তি হলো স্বয়ংক্রিয় যানবাহন বা অটোনোমাস ভেহিকেল (এভি) প্রযুক্তি। রাস্তার পরিস্থিতি এবং চারপাশের পরিবেশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য এই গাড়িগুলোতে ক্যামেরা, রাডার ও লিডার (লেজার রশ্মি) ব্যবহার করা হয়। ক্যামেরার মাধ্যমে ছবি তোলা হয়, রাডার ব্যবহার করে আশপাশের বস্তুর গতিবিধি শনাক্ত করা হয় এবং লিডারের সাহায্যে একটি ত্রিমাত্রিক বা থ্রিডি মানচিত্র তৈরি করা হয়। বিভিন্ন সেন্সর থেকে প্রাপ্ত এই তথ্যের সম্মিলিত রূপান্তর প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘সেন্সর ফিউশন’। এরপর এআই ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ডেটাগুলো মুহূর্তের মধ্যে বিশ্লেষণ করা হয়, যার ফলে গাড়িটি পথচারী কিংবা ট্রাফিক সিগন্যাল বুঝে স্বয়ংক্রিয়ভাবে থামা, গতি কমানো অথবা দিক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
একটি নির্দিষ্ট এলাকার ডিজিটাল থ্রিডি মানচিত্রের সাথে সেন্সর থেকে আসা তাৎক্ষণিক তথ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে রোবোট্যাক্সি তার সঠিক পথ খুঁজে নেয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী গাড়ির স্বয়ংক্রিয়তার মোট ছয়টি স্তর (লেভেল ০-৫) বিদ্যমান। বর্তমানে প্রচলিত রোবোট্যাক্সিগুলো মূলত ‘লেভেল ৪’ বা হাই অটোমেশন স্তরে পরিচালিত হয়। এর ফলে নির্দিষ্ট অনুমোদিত এলাকা এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো চালক ছাড়াই গাড়িটি পথ চলতে সক্ষম। তবে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে এবং যেকোনো ধরনের আবহাওয়ায় চলার উপযোগী ‘লেভেল–৫’ বা পূর্ণাঙ্গ স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির রোবোট্যাক্সি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বর্তমানে গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
আহসান হাবীব
সূত্র: বিল্টইন ডটকম ও টেসলা