বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ আবারও ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। গত শুক্রবার এক দিনেই তাঁর সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ৬১ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ১০০ কোটি ডলার। মূলত মাস্কের মহাকাশ ও স্যাটেলাইট কোম্পানি স্পেসএক্স এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলার শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তাঁর সম্পদমূল্যের এই বিশাল উল্লম্ফন ঘটেছে।

ফোর্বসের রিয়েলটাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৭৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ৯৭ হাজার ৯৭০ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে দেখা যায়, গত শুক্রবার এক দিনেই তাঁর সম্পদ বেড়েছে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক দিনে মাস্কের সম্পদের বৃদ্ধি বাংলাদেশের বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশের সমান।

গত শুক্রবার স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়ে ১৫৮ দশমিক ৮৪ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় কোম্পানিটি বেশ কয়েকটি মহাকাশযান সফলভাবে উৎক্ষেপণ করায় এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। পাশাপাশি, বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলার শেয়ারের দামও প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ৩৭১ দশমিক ৩২ ডলারে উঠেছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে টেসলা ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫৩২টি গাড়ি সরবরাহ করেছে, যা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। ফলে টানা তৃতীয় বছর গাড়ি সরবরাহ কমার আশঙ্কা কাটিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

ফোর্বসের তালিকায় ইলন মাস্ক এখনো শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৩৭০ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ৩৭ হাজার ৭০ কোটি ডলার।

এর আগে গত ১২ জুন স্বল্প সময়ের জন্য বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হয়েছিলেন মাস্ক। ওই দিন তাঁর সম্পদের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি ডলারে উঠেছিল। জুন মাসে স্পেসএক্সের শেয়ার ১৫০ ডলারে লেনদেন শুরু হলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যার ফলে মাস্ক ট্রিলিয়ন ডলারের মালিক হন।

তবে জুনের শেষ দিকে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৩১ শতাংশ কমে যাওয়ায় তিনি এই মর্যাদা হারান। একই সময়ে টেসলার সঙ্গে একটি চুক্তির কারণে ১১৬ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের শেয়ার তাঁর হিসাব থেকে বাদ দেয় ফোর্বস। এরপর ২৯ জুন সাময়িকভাবে আবারও ট্রিলিয়নিয়ার হলেও ১ জুলাই স্পেসএক্সের শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় তা পুনরায় হারান। জুলাই মাসে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ স্তর থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেলে মাস্কের সম্পদ ৭০০ বিলিয়ন বা ৭০ হাজার কোটি ডলারের নিচে নেমে এসেছিল। বর্তমানে স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির সাথে তাঁর সম্পদ আবারও দ্রুত বাড়ছে।