নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনকে চট্টগ্রামের রাউজানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টায় রাউজানের গহিরা গ্রামের বক্স আলী চৌধুরী বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে সকালে নিজ গ্রামের বাড়িতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা জানাজাকে কেন্দ্র করে রাত থেকেই ওই বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে গহিরা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জুয়েল চৌধুরী বলেন, ‘রোটন আমাদের গ্রামের মানুষ, বাড়ির মানুষ। তাকে একটা রাজকীয় বিদায় আমরা দিতে চাই। জানাজায় দল-মত যার যা-ই থাকুক, সবার উদ্দেশ্যে বলব, এমন কিছু করবেন না, যাতে তার অসম্মান হয়। শুধু কলেমা পড়বেন।’
এর আগে রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভারতের কলকাতা থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে তার মরদেহ বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। সেখানে তার স্ত্রী আরেফা সুলতানা মরদেহ গ্রহণ করেন।
ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ১০ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে ভারতের কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৮ বছর।
নিহতের স্ত্রী আরেফা সুলতানা জানান, মৃত্যুর প্রায় ছয় দিন আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতে অবস্থান করছিলেন তিনি।
রাজনৈতিক জীবনে মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি মূল দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০২১ সালে দলটির শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসেবেও মনোনীত হয়েছিলেন তিনি।