রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা চলতি মৌসুমে এক দিনে ভর্তির সর্বোচ্চ রেকর্ড।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ এক তথ্যে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এক দিনে এত বিপুল সংখ্যক রোগীর ভর্তি হওয়ার ঘটনায় রাজশাহীর সামগ্রিক ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অভিমত অনুযায়ী, কেবল হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ বাড়িয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এর জন্য মশার প্রজননস্থল সম্পূর্ণ ধ্বংস করা, নিয়মিত নজরদারি চালানো এবং সাধারণ জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বাড়ির ভেতরে ও আশপাশে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। পাশাপাশি জ্বর হলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে জ্বর কমে যাওয়ার পর আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এই সময়ে যদি তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, অস্থিরতা কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। এই লক্ষণগুলো ডেঙ্গুর মারাত্মক সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ বলেন, “ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্তের পাশাপাশি অনেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।” একই সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৩৩ জন রোগী। স্বস্তির বিষয় হলো, এই নির্দিষ্ট সময়ে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে রামেক হাসপাতালে মোট ২০৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত এই হাসপাতালে ডেঙ্গুতে মোট ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।