রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক এলাকায় স্থানীয় দুটি সংগঠনের বিক্ষোভ কর্মসূচির কারণে দীর্ঘ তিন ঘণ্টা সড়কে আটকা পড়ে ছিল পর্যটকবাহী গাড়িবহর। পরবর্তীতে পুলিশ ও সেনাবহিনীর সাথে আলোচনার পর বিক্ষোভকারীরা সড়ক ছেড়ে চলে গেলে গাড়িগুলো তাদের গন্তব্যের দিকে রওনা দেয়।
আজ রোববার বেলা আড়াইটার দিকে সাজেক থেকে আসা গাড়িবহর ওই এলাকার উজোবাজারে এবং খাগড়াছড়ি শহর থেকে সাজেক অভিমুখে রওনা হওয়া গাড়িগুলো মাচালং বাজারে এসে আটকা পড়ে। জানা গেছে, এই দুই স্থানে বিক্ষোভকারীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন করছিলেন। অবশেষে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় সড়কের উভয় স্থান থেকে বিক্ষোভকারীরা সরে যান।
এর আগে গতকাল শনিবার সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন এবং সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি নামের দুটি সংগঠন সাজেকে অবরোধের ডাক দিয়েছিল। তাদের দাবি ছিল, জনসংহতি সমিতির চাঁদাবাজ জেএসএসের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সরিয়ে নিতে হবে।
সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির অভিযোগ, ওই এলাকায় আঞ্চলিক দল জেএসএস (সন্তু লারমা) সশস্ত্র তৎপরতা শুরু করেছে এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এই তৎপরতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গত বৃহস্পতিবার একটি সমাবেশ করে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা সড়ক অবরোধের সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে জেএসএস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, স্থানীয়দের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বরং ইউপিডিএফ-এর চাপে পড়ে এই দুটি সংগঠন সড়ক অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। জেএসএসের প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “সাজেকে নিরীহ জনগণের ওপর দীর্ঘদিন ধরে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের যে নিপীড়ন ও হয়রানি চলছে, সেসব আড়াল করতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।”
অন্যদিকে, ইউপিডিএফ-এর মুখপাত্র অংগ্য মারমা মুক্তকণ্ঠকে জানান, ইউপিডিএফ-এর চাপে কোনো সংগঠনই অবরোধ কর্মসূচি দেয়নি। তবে সাধারণ মানুষের স্বার্থে দুটি সংগঠন যে কর্মসূচির ডাক দিয়েছে, তার প্রতি ইউপিডিএফ-এর পূর্ণ সমর্থন থাকবে।
খাগড়াছড়ি মাহিন্দ্রা মালিক কল্যাণ সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল গণি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “আজ সকাল থেকেই অবরোধের সমর্থনে বিক্ষোভ হয় সাজেকের বিভিন্ন স্থানে। এর মধ্যেই খাগড়াছড়ি থেকে রওনা হয়ে বাঘাইহাট আসে পর্যটকবাহী গাড়িগুলো। সেখান থেকে বেলা আড়াইটায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের নিরাপত্তায় সাজেকের দিকে গাড়িগুলো রওনা হয়। তবে সে গাড়িগুলো মাচালং বাজারে এসে বিক্ষোভের মুখে পড়ে। অপরদিকে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র থেকে ছেড়ে আসা গাড়িগুলো বিক্ষোভের মুখে ‘উজোবাজার’ এলাকায় আটকে পড়ে। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনার পর বিক্ষোভকারীরা সরে গেলে গাড়িগুলো গন্তব্যে রওনা দেয়।”
সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “সেনাবাহিনী ও পুলিশের কাছে তাঁরা জেএসএসের ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ ৩ দফা দাবি তুলে ধরেছেন। দাবিগুলো মানলে আগামী ৪৮ ঘণ্টার জন্য অবরোধ শিথিল করা হবে।”
খাগড়াছড়ি মাহিন্দ্রা মালিক কল্যাণ সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল গণি আরও জানান, আন্দোলনরত দুটি সংগঠনের সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়ায় বিকেল সাড়ে পাঁচটায় বিক্ষোভকারীরা সড়ক থেকে সরে যান। এর ফলে পর্যটকবাহী গাড়িগুলো নিরাপদে তাদের গন্তব্যের দিকে যাত্রা করতে সক্ষম হয়।