প্রশাসনের দেওয়া আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে রাঙামাটির সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য চলা অবরোধ কর্মসূচি ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত করেছেন আন্দোলনকারীরা। এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ সময় ভোগান্তির শিকার হওয়া পর্যটকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার পর খাগড়াছড়ি–সাজেক সড়কের গঙ্গারাম মুখ এলাকায় আটকে থাকা পর্যটক এবং যানবাহনগুলোর চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
এর আগে অবরোধের কারণে সড়কের দুই পাশে দুই শতাধিক যানবাহন আটকা পড়েছিল। এসব যানবাহনে নারী ও শিশুসহ শত শত পর্যটক অবস্থান করছিলেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য যে, ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন’ যৌথভাবে এই অবরোধ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ওই এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছে এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’র প্রতিনিধি বাবু ধন চাকমা জানান, তারা প্রশাসনের কাছে তিনটি দাবি পেশ করেছেন। দাবিগুলো হলো—আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সাজেক এলাকা থেকে জেএসএসকে সরিয়ে নেওয়া, ভবিষ্যতে সংগঠনটি যাতে কাউকে প্রাণনাশের হুমকি দিতে না পারে, সে বিষয়ে নিশ্চয়তা দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের বাড়িতে তল্লাশির নামে হয়রানি বন্ধ করা।
তিনি আরও জানান, প্রশাসনের আশ্বাসে তারা ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়ে অবরোধ স্থগিত করেছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো পূরণ করা হলে আর সড়ক অবরোধ করা হবে না। অন্যথায় তারা আবারও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
এ বিষয়ে সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার পর তারা অবরোধ তুলে নিয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আটকে পড়া পর্যটকেরা নিরাপদে খাগড়াছড়ি ও সাজেকের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন।”