রাঙামাটির অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে শুরু হয়েছে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি। সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি এবং সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বানে আজ রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এই আকস্মিক অবরোধের ফলে সাজেকে অবস্থানরত এবং বেড়াতে আসা পর্যটকদের মধ্যে চরম হতাশা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে চরম উত্তেজনা ও অবরোধের মাঝেও সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় সীমিত পরিসরে পর্যটকদের সাজেকে আনা এবং সেখান থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর সাজেকের উজোবাজারে একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ সমর্থিত সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি একটি আল্টিমেটাম প্রদান করে। তাদের দাবি ছিল, জনসংহতি সমিতির সন্তু গ্রুপের সদস্যদের সাজেক থেকে সরিয়ে নিতে হবে। সেই দাবির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে আজ থেকে বাঘায়হাট থেকে সাজেক ভ্যালি পর্যন্ত সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।

সড়ক অবরোধের কারণে সাজেকে আসা এবং যারা ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন, তারা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা এবং মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে এখানে এসে যাতায়াত নিয়ে তারা এখন গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

বগুড়া থেকে আসা পর্যটক টিপু চৌধুরী তার অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে বলেন, “সাজেকে ঘুরতে আসার জন্য অনেক আগে থেকেই পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু অবরোধের কারণে কখন ফিরতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নিরাপদে যাতায়াত নিশ্চিত করে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানান তিনি।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা আরেক পর্যটক শাহিদ আক্ষেপ করে বলেন, “সাজেকে এসে এমন পরিস্থিতিতে পড়বেন, তা কখনো ভাবেননি। অবরোধের কারণে ভ্রমণের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পর্যটকদের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।”

আর্থিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করে সাজেক জিপগাড়ি চালক মো. ইয়াকুব আলী বলেন, “অবরোধের কারণে গাড়ি চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আমাদের পর্যটক আসলে আয় হয় নাহলে বসে বেকার সময় কাটাতে হয়। পর্যটক অনেক কমে গিয়েছে। এতে আমাদের চালক ও পর্যটক দুই পক্ষই ভোগান্তিতে পড়ছেন। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ নিলে পর্যটন নগরীতে পর্যটকদের আগমন ঘটবে আরও বেশি।”

অন্যদিকে, খাগড়াছড়িতে সাজেক জিপ গাড়ি কাউন্টারের ম্যানেজার মো. আরিফ পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আশ্বস্ত করে বলেন, “পর্যটকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় দিনে একবার স্কটের মাধ্যমে পর্যটকদের সাজেকে নেওয়া এবং সেখান থেকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ রয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী যাতায়াতের বিষয়ে পর্যটকদের প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হচ্ছে। আমাদের গাড়িগুলো আগে যেরকম যেতো এখনো ঠিক একইভাবে যাচ্ছে। তবে, আগে দুবার পর্যটকদের গাড়ি স্কট দিয়ে নিয়ে যাওয়া ও আসা হতো। আর আজকে থেকে দিনে একবার নিয়ে যাওয়া ও আসা হবে। কোনো সমস্যা হচ্ছে না। সেনাবাহিনী পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় কাজ করে যাচ্ছেন।”

খাগড়াছড়ির সংশ্লিষ্ট কাউন্টার এবং সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সদস্যদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সেনাবাহিনীর বিশেষ স্কটের মাধ্যমে পর্যটকদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হলেও অবরোধের কারণে স্বাভাবিক ভ্রমণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে।