‘নির্মাণ’ শব্দের অর্থ গড়ে তোলা। এই অর্থবহ নাম নিয়েই ১৯৭৬ সালে কে জেড ইসলাম যাত্রা শুরু করেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল দেশে বহুতল এবং আইকনিক সব ভবন নির্মাণ করা। তবে কেবল কাজ শেষ করাই ছিল না তাঁর লক্ষ্য, বরং আস্থার সাথে ধারাবাহিকভাবে মানসম্মত কাজ উপহার দেওয়াই ছিল প্রতিষ্ঠানটির মূল উদ্দেশ্য।
প্রায় পাঁচ দশকের দীর্ঘ পথচলায় সেই ধারাবাহিকতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো দেশের একের পর এক পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সাথে ‘নির্মাণ’ ইন্টারন্যাশনালের নাম যুক্ত হওয়া।
প্রতিষ্ঠানের যাত্রার কয়েক বছর পর, আশির দশকের মধ্যেই কে জেড ইসলাম তাঁর মানসম্মত কাজ, অঙ্গীকার এবং দূরদর্শিতার জন্য ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন। নব্বইয়ের দশকে সেই সুনামের ফলেই বড় বড় প্রকল্পের জন্য প্রথম পছন্দের তালিকায় স্থান পায় নির্মাণ ইন্টারন্যাশনাল।
প্রতিষ্ঠানটির নির্মিত স্থাপনার তালিকায় রয়েছে মতিঝিলের ৩২ তলা বিশিষ্ট বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকার ২১ তলা সেনাকল্যাণ ভবন এবং মহাখালীর ২০ তলা ব্র্যাক সেন্টার। এছাড়া গাজীপুরের বোর্ডবাজারে অবস্থিত ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি নির্মাণের সাথেও জড়িয়ে আছে এই প্রতিষ্ঠানটি।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই সব ভবন প্রতিষ্ঠানটি বিংশ শতাব্দীর শেষ হওয়ার আগেই হস্তান্তর করেছে; অর্থাৎ যাত্রার প্রথম দুই থেকে আড়াই দশকের মধ্যেই এই সাফল্য তারা অর্জন করে। এরই মধ্যে নির্মাণের কাজের পরিধি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে যায়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত যখন তাদের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ সম্প্রসারিত করতে শুরু করে, তখন সেখানেও যুক্ত হয় ‘নির্মাণ’। তারা আবুধাবিতে ১৯ তলা বিশিষ্ট আল-সাকসাক ভবন নির্মাণ করে, যা ১৯৯২ সালে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া ১৯৯৩ সালে ১০ তলা আল কাসমি এবং ১৯ তলা আল মোবাররক ভবন হস্তান্তর করা হয়।
কোম্পানির কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৫০টির বেশি প্রকল্প সফলভাবে হস্তান্তর করেছে প্রতিষ্ঠানটি। শুধু উঁচু ভবন নয়, অবকাঠামো এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের বিভিন্ন কাজেও তাদের সাফল্যের পদচিহ্ন রয়েছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তারা পরামর্শ এবং টার্নকি ইপিসি (প্রকৌশল, সংগ্রহ ও নির্মাণ) সেবা প্রদান করছে। পাশাপাশি তারা বিলাসবহুল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন তৈরি করছে এবং পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
বর্তমানে নতুন নতুন প্রকল্পের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে নির্মাণ ইন্টারন্যাশনাল। তেজগাঁও বাণিজ্যিক এলাকায় ৩০ তলা বিশিষ্ট ‘মিরাই বাই নির্মাণ’ তৈরি হচ্ছে। ৪ লাখ বর্গফুট আয়তনের এই প্রকল্পটির হস্তান্তর সময় নির্ধারিত ২০২৭ সালের ডিসেম্বর। আবাসিক প্রকল্পের মধ্যে গুলশান-২-এর ৯৬ নম্বর সড়কে ১৪ তলা ‘সিরোক্কো বাই নির্মাণ’ নির্মিত হয়েছে। এছাড়া হাতিরঝিলে ১০ তলা ‘লিলিয়া বাই নির্মাণ’ প্রকল্পটির ২০২৯ সালের ডিসেম্বরে হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। ধানমন্ডি, বসুন্ধরা ও স্বদেশেও তাদের বিভিন্ন প্রকল্প চলমান রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, সময় বদলে গেলেও তাদের মূল্যবোধ ও অগ্রাধিকারের কোনো পরিবর্তন হয়নি। মান, অঙ্গীকার ও যত্নই আজও নির্মাণের প্রধান পরিচয়।