আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ফেনী জেলাজুড়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে এখন মৃৎশিল্পীদের নিপুণ ছোঁয়ায় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রতিমা সজ্জা ও প্যান্ডেল সাজানোর কাজ। সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসবকে নির্বিঘ্ন, আনন্দময় ও শান্তিপূর্ণ করতে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে সর্বাত্মক প্রস্তুতি ও কড়া নিরাপত্তা বলয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এ বছর ফেনী জেলার ৬টি উপজেলায় সর্বমোট ১৫৩টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবকে ঘিরে মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তার পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবার ও মন্দিরগুলোর কল্যাণে প্রশাসনিকভাবে বিভিন্ন আর্থিক ও খাদ্য সহায়তাও প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া মণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ দায়িত্বে থাকবে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করতে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একাধিক প্রস্তুতিমূলক সমন্বয় সভা সম্পন্ন করা হয়েছে।
ফেনীর জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুল করিম মুক্তকণ্ঠকে জানান, “আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবকে উৎসবমুখর ও আনন্দময় করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ৯১ টন সরকারি চাল বিতরণ করা হয়েছে। তাছাড়া হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সৌজন্যে অনগ্রসর ও অসচ্ছল মন্দিরগুলোর অনুকূলে সর্বনিম্ন ৫ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক অনুদান প্রদান করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতায় দুর্গোৎসব সফলভাবে সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে উৎসবকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলাজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার মুক্তকণ্ঠকে জানান, “জেলার ১৫৩টি পূজামণ্ডপকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে নিবিড় টহলের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য মাঠপর্যায়ে তদারকি করছেন। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আশা করা যাচ্ছে, পুণ্যার্থীরা অত্যন্ত সুন্দর, নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে তাদের পূজা আর্চনা সম্পন্ন করতে পারবেন।”
সব মিলিয়ে মণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি নজরদারি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরদার টহল এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়েই ফেনীতে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপনের যাবতীয় প্রস্তুতি চূড়ান্ত হয়েছে।