রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতে আয়োজিত এক নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার ফাইনাল রাউন্ডে চরম উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা একটি নৌকাকে ধাক্কা দিয়ে ডুবিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মাঝিদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে পিছিয়ে থাকা অন্য একটি নৌকার মাঝিমাল্লাদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অন্তত ২০ জন মাঝি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার লালগোলা এলাকার পদ্মা নদীতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং আয়োজক কমিটির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তাঁদের রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা নয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আয়োজক কমিটির সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর উপজেলার গোদারবাজার এলাকায় পদ্মা নদীতে তিন দিনব্যাপী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। শনিবার ছিল এই প্রতিযোগিতার সমাপনী বা শেষ দিন। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ফাইনাল লড়াইয়ে নামে পাবনার আমিনপুর থানার ‘নিউ শাড়ির ভিটা’ এবং কুষ্টিয়ার ‘নিউ জনতা সংগ্রাম’ নামের দুটি নৌকা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফাইনাল লড়াইয়ে নৌকা দুটি গোদারবাজার থেকে ভাটির দিকে উড়াকান্দা এলাকার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। তবে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় আলোর স্বল্পতার কারণে নৌকা দুটি স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। তীব্র প্রতিযোগিতার মাঝেই লালগোলা এলাকায় ‘নিউ শাড়ির ভিটা’ নৌকাটি কিছুটা এগিয়ে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তে ‘নিউ জনতা সংগ্রাম’ নৌকার ধাক্কায় সেটি পদ্মায় ডুবে যায় বলে অভিযোগ করা হয়।

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ‘নিউ শাড়ির ভিটা’ নৌকার মাঝি রওশন সরকার বলেন, “তাঁদের নৌকায় প্রায় ৮০ জন মাঝি ছিলেন। তাঁরা প্রতিযোগিতায় এগিয়ে ছিলেন। তখন ‘নিউ জনতা সংগ্রাম’ নৌকা ডান পাশ থেকে তাঁদের নৌকায় ধাক্কা দেয়। এতে তাঁদের নৌকাটি ডুবে যায়। পরে অপর নৌকার মাঝিরা বাঁশ, লাঠি ও বইঠা দিয়ে তাঁদের মারধর করেন।”

সন্ধ্যার স্বল্প আলোয় প্রতিযোগিতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পিডবোট নিয়ে নৌকা দুটির পেছনে অবস্থান করছিল নৌ পুলিশ। দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ত্রিনাথ সাহা জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে একটি নৌকার ধাক্কায় নিউ শাড়ির ভিটা নামের নৌকাটি ডুবে যায়। এরপর ফায়ার সার্ভিস ও আয়োজক কমিটির সহযোগিতায় দ্রুত ওই নৌকার ৭৫ থেকে ৮০ জন মাঝিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট রাজীব দে সরকার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত ৯ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লেগেছে।”

ঘটনার পরপরই প্রতিযোগিতা ছেড়ে পালিয়ে যান কুষ্টিয়ার ‘নিউ জনতা সংগ্রাম’ নৌকার মাঝিরা। আয়োজক কমিটির সদস্যরা তাঁদের কারও মুঠোফোন নম্বর না দিতে পারায় অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব ও রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “‘নিউ শাড়ির ভিটা’ নৌকায় হামলার পর দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান ‘নিউ জনতা সংগ্রাম’ নৌকার মাঝিরা। চেষ্টা করেও তাদের আটক করা যায়নি।” তিনি আরও জানান, আজ রোববার দুপুরে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম তাঁর রাজবাড়ী শহরের বাসভবনে বিজয়ী ‘নিউ শাড়ির ভিটা’ নৌকাকে বিজয়ী ঘোষণা করে প্রথম পুরস্কার দুই লাখ টাকা দিয়েছেন।