চট্টগ্রাম নগরের তালিকাভুক্ত ‘সন্ত্রাসী’ ও কিশোর গ্যাং নেতা ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা খুলশী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিমকে চট্টগ্রাম থেকে খুলনায় বদলি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ থেকে তাঁর ছাড়পত্র গ্রহণ করেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে নির্দেশ দেওয়া হয় যে, আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে যোগদানের জন্য তাঁকে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ থেকে ছাড়পত্র নিতে হবে।
বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে শনিবার রাতে মুক্তকণ্ঠকে আব্দুর রহিম বলেন, ‘খুলনায় যোগদানের জন্য নগর পুলিশ থেকে ছাড়পত্র নিয়েছি।’
ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার, যখন পুলিশ জানতে পারে যে কিশোর গ্যাং নেতা ওয়াকিল নগরের টাইগারপাস এলাকায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে অবস্থান করছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে খুলশী থানা-পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সেখানে যায়, তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে ধরতে না পেরে ফিরে আসতে হয়। এই ঘটনার পরদিন বুধবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের সামনে খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেন। মেয়রের দাবি ছিল, ‘ওয়াকিল সন্ত্রাসী নয়, জুলাই যোদ্ধা।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ওয়াকিল দলের একজন ত্যাগী নেতা। এই ঘটনার পর একই দিনে আবদুর রহিমকে খুলশী থানার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নগর বিশেষ শাখায় (সিটি এসবি) ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওয়াকিল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মেয়রের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তিন মাস আগে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ২৩টি মামলা রয়েছে। পুলিশের দাবি, তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এসব অপরাধ করে আসছিলেন।
অন্যদিকে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী’ হিসেবে পরিচিত ওয়াকিলকে তিনি আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী হিসেবে মানেন না। মেয়রের দাবি, ওয়াকিল গত ১৭-১৮ বছর বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেও ‘যোদ্ধা’ হিসেবে অংশ নিয়েছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে ১৭০ থেকে ১৮০টি মামলা দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন মেয়র।
মেয়রের এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে আবদুর রহিম জানান, ‘তিনি ছুটিতে ছিলেন। নগর ভবনে পুলিশের অভিযানের বিষয়ে তিনি জানেন না। খুলশী থানার ওসি হিসেবে যোগ দেওয়ার পর এক কলেজশিক্ষককে মারধরের মামলায় ওয়াকিলকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়েছিল। ওই সময় ওয়াকিলের লোকজন পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর করে বলে দাবি করেন তিনি।’
এদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন মুক্তকণ্ঠকে জানিয়েছেন, ‘পুলিশ নগর ভবনে ওয়াকিলকে ধরতে আসেনি, আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছিল। ওয়াকিল ওখানে ছিল না। দলের দুঃসময়ে মিছিল সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন। কেউ অপরাধ করে থাকলে পুলিশ ব্যবস্থা নিক। গ্রেপ্তার করুক। আমি কোনো আশ্রয়–প্রশ্রয় দিচ্ছি না।’