দেশের আবাসন খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে চার দশকের পথচলা সম্পন্ন করেছে বিটিআই। বর্তমান প্রজন্মের ক্রেতাদের পরিবর্তিত চাহিদা এবং আধুনিক জীবনযাত্রার মানদণ্ড বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রকল্পগুলোতে নতুন নতুন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাচ্ছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে বর্তমান আবাসন খাতের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

নতুন প্রজন্মের ক্রেতাদের চাহিদার বিষয়ে এম মাহবুবুর রহমান জানান, বর্তমান সময়ে আবাসন মানে কেবল একটি নির্দিষ্ট ঠিকানা নয়, বরং এটি একটি উন্নত জীবনযাপনের চাবিকাঠি। তাই প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রকল্পগুলোতে আধুনিক নকশা, উন্নতমানের নির্মাণশৈলী, স্মার্ট হোম প্রযুক্তি এবং হোম অটোমেশনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এছাড়া ল্যান্ডস্কেপড রুফটপ, কমিউনিটি ফ্যাসিলিটি এবং ওয়েলবিয়িং-কেন্দ্রিক ফিচারগুলো যুক্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য—সময়ের চাহিদা পূরণ করে এমন আবাসন তৈরি করা, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবনযাত্রার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।”

নির্মাণকাজে প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে নির্মাণের প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ প্রযুক্তির ব্যবহার এখন যুগের চাহিদা। পরিকল্পনা থেকে শুরু করে নকশা, নির্মাণ ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প এলাকার তদারকি, মান পরীক্ষা (কোয়ালিটি টেস্টিং), আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং বিপণনের মতো প্রতিটি পর্যায়েই আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। এম মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ‘বাড়ির মালিকানার অভিজ্ঞতাকে আনন্দময় করে তোলা’। আমাদের কাজের প্রতিটি পর্যায়ে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে কাজগুলো আরও নির্ভুল, স্বচ্ছ ও দক্ষ হচ্ছে সেই সঙ্গে কমছে সময় ও সম্পদের অপচয়। বাড়ি কেনার অভিজ্ঞতাকে আনন্দময় করে তুলতে এর কোনো বিকল্প নেই।”

অ্যাপার্টমেন্টে স্মার্ট হোম প্রযুক্তির প্রয়োগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্মার্টহোম প্রযুক্তি এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং আধুনিক ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপনের একটি কার্যকর অংশ বলেই বিবেচিত হয়। বর্তমানে তাদের সব অ্যাপার্টমেন্টে স্মার্ট ডোর লক, ভিডিও ডোরফোন, নিরাপত্তা ক্যামেরা, গ্যাস লিকেজ ডিটেক্টর, রিমোট-কন্ট্রোলড লাইট ও ফ্যান এবং স্মার্ট লাইটিংয়ের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা হচ্ছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, স্মার্ট ডোর লক নিরাপত্তা বৃদ্ধির পাশাপাশি চাবির ওপর নির্ভরতা কমায় এবং নিরাপত্তা ক্যামেরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে সহায়তা করে। অন্যদিকে, স্মার্ট লাইটিং দৈনন্দিন ব্যবহারে বাড়তি নিয়ন্ত্রণ ও স্বস্তি আনে এবং অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিল কমাতেও কার্যকর হয়। তার মতে, প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘরকে শুধু স্মার্ট নয়, বরং মানুষের জন্য আরও নিরাপদ, সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য।

নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে এম মাহবুবুর রহমান জানান, নির্মাণসামগ্রীর ক্রমবর্ধমান মূল্য আবাসন খাতের জন্য নিঃসন্দেহে অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ। একদিকে নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতা ও সামর্থ্যের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দাম স্থিতিশীল রাখতে তারা নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি স্বীকার করেন যে, অন্যান্য ব্যবসার মতো আবাসন খাতের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, “এই সময়ে দক্ষতা, ব্যয়সাশ্রয়ী পরিকল্পনা ও দীর্ঘ সময় গ্রাহকের আস্থা ধরে রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, তারা কখনোই শুধু উচ্চবিত্তদের জন্য অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ করেন না। বরং বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের প্রয়োজন ও ক্রয়ক্ষমতাকে বিবেচনায় রেখে প্রকল্প পরিকল্পনা করা হয়। তিনি বলেন, “সব সময়ের মতো ভবিষ্যতেও আমরা আধুনিক, স্থায়ী ও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি সব ধরনের ক্রেতার জন্যও বাস্তবসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিয়ে কাজ করতে চাই। আমাদের কাছে আবাসন মানে শুধু সম্পত্তি নয়, এটি মানুষের নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যতের বিনিয়োগ।”