রংপুরের মিঠাপুকুরে একটি পাগলা কুকুরের তাণ্ডবে শিশু, নারী ও পুরুষসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরের পর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী ১০টি গ্রামে এই আতঙ্কজনক ঘটনাটি ঘটে। এতে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, শনিবার দুপুরের পর শঠিবাড়ী শিশু নিকেতন এলাকা থেকে কুকুরটি বিভিন্ন গ্রামে প্রবেশ করে মানুষকে কামড়াতে শুরু করে। এরপর চিথলী মধ্যপাড়া, শীতলগাড়ী, রামপুরা ও চিথলী দক্ষিণপাড়াসহ আশপাশের ১০টি গ্রামের বিভিন্ন সড়কে কুকুরটি পথচারী, গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত নারী এবং শিশুদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। এতে বহু মানুষ আহত হন। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা লাঠিসোঁটা নিয়ে কুকুরটিকে ধাওয়া করলে সেটি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

কুকুরের কামড়ে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই বর্তমানে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের তালিকায় রয়েছেন আল ফারুক, সেলিনা বেগম (৩৩), শীতলগাড়ী গ্রামের শিশু লাবিব (৫), লাবিব (২৫), শফিউল (৩২), হাসেম (২৮), ফাহিম (১৮), সানজিদা (১১) ও মাসুদ রানা (২৭)।

আহত ব্যক্তিরা তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, কিছু বুঝে ওঠার আগেই কুকুরটি তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কামড় দেয়। এই ভয়াবহ ঘটনার পর থেকে অভিভাবকেরা তাঁদের শিশুদের ঘরের বাইরে পাঠাতে চরম ভয় পাচ্ছেন।

মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. কামিয়াবী দৃষ্টি জানান, “কুকুরের কামড়ে আহত ব্যক্তিরা হাসপাতালে আসছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। অনেকের শরীরে গভীর ক্ষত হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা, ক্ষতের পরিচর্যা ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ ও টিকা রয়েছে। আহত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”

অন্যদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের চিকিৎসক ডা. এম এ হালিম লাভলু জানান, কুকুরের কামড়ে আহত ৩৫ থেকে ৪০ জন হাসপাতালে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

মিঠাপুকুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগের। খবর পাওয়ার পর থেকে তারা পরিস্থিতির খোঁজখবর নিচ্ছেন। সাধারণত জলাতঙ্ক বা অন্য কোনো অসুস্থতার কারণে কুকুর এ ধরনের উগ্র আচরণ করতে পারে। বেওয়ারিশ ও ক্ষতিকর কুকুর নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”